fbpx
শনিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২০, ১২:১৮ পূর্বাহ্ন
Logo
সংবাদ শিরোনাম ::
টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে লাখো মুসল্লীর জুম্মার নামাজ আদায় মুজিববর্ষে আ’লীগের নেতাকর্মীদের বঙ্গবন্ধুকে জনগণের মাঝে তুলে ধরতে হবে —আশিক মাহমুদ মিতুল হাকিম স্কাউটস সদস্যদের দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে —এমপি কাজী কেরামত আলী রাজবাড়ী জেলা বিএনপি’র সভায় উপজেলা ও পৌরসভাসহ সকল ইউনিট কমিটি বিলুপ্ত সর্বাধিক গ্রাহক নিয়ে প্রথম স্থানে ‘নগদ’ আরব সাগরে ভেসে যাওয়া বাংলাদেশীর লাশ উদ্ধার আমিরাতে জনতা ব্যাংকের ঋণ খেলাপীদের ছাড় দেয়া হবে না —সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় চোলাই মদসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার গোয়ালন্দে শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন এমপি কাজী কেরামত আলী পিপিএম-সেবা পদক পেলেন রাজবাড়ীর কৃতি সন্তান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মশিউদ্দৌলা রেজা

রোহিঙ্গা সংকটের আশু সমাধান প্রয়োজন

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল, ২০১৯

॥খোন্দকার আব্দুল মতিন॥ রোহিঙ্গা সংকটের আশু সমাধান প্রয়োজনমাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, ঠিকানা নেই, শিক্ষা নেই, কর্মদক্ষতা নেই, আয়-উপার্জন বা জীবন-জীবিকার কোনো নিশ্চয়তা নেই-এমন প্রান্তিকতম মানুষের কাছে কোনো যৌক্তিক আচরণ আশা করা যায় না। রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে তা-ই হয়েছে। তাদের অনেকেই নানা ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে এবং পড়ছে। ইয়াবা ও অস্ত্র চোরাচালানে তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে অনেকে ধরা পড়েছে। বন্দুকযুদ্ধে কয়েকজন নিহত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রগুলোর সঙ্গেও তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। স্থানীয় অপরাধীচক্রগুলোও তাদের দলে ভেড়াচ্ছে। এসব ছাপিয়ে গেছে যে ভয়ংকর ঝুঁকির দিকটি, তা হলো জঙ্গিবাদের সঙ্গে তাদের ব্যাপক সংখ্যায় জড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। এমনটি হলে তা বাংলাদেশের জন্য তো বটেই, গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রতি তা বড় ধরনের হুমকি হয়ে দেখা দিতে পারে। সম্প্রতি ব্রাসেলসভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপও (আইসিজি) এমন পূর্বাভাসই দিয়েছে।
জঙ্গিবাদী কর্মকা-ের সঙ্গে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী অনেক আগে থেকেই সম্পৃক্ত। তালেবানদের সঙ্গে আফগান যুদ্ধে অংশ নেওয়া অনেকেই নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বাংলাদেশে ফিরে এসেছিল। জানা যায়, প্রত্যাগতদের মধ্যে দুই শতাধিক রোহিঙ্গাও ছিল। দুনিয়াব্যাপী দমনের মুখে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো নতুন মুখ অনুসন্ধান করে ফিরছে। মানবিক সহায়তা, ধর্মীয় সহায়তাসহ নানা অছিলায় জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো কক্সবাজারেও এই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, এমনটা মনে করাই স্বাভাবিক। তা ছাড়া অতীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও এ রকম সন্দেহভাজন অনেকের উপস্থিতি সেখানে দেখতে পেয়েছে। কারো কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। প্রান্তিক এসব মানুষের সামনে যেখানে সীমাহীন অনিশ্চয়তা, প্রতিনিয়ত জীবনের নিষ্ঠুর তিক্ততা, সেখানে তাদের ধর্মীয় আবেগকে শোষণ করা বা বিপথগামী করা জঙ্গিদের জন্য অতি সহজ কাজ। ভাবা যায়, জঙ্গিরা এখান থেকে যদি কয়েক শ তরুণকেও আত্মঘাতী বানাতে পারে, তার পরিণতি কী হবে? এই প্রক্রিয়া রোধ করার জন্য রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে যে ধরনের কঠোর ব্যবস্থাপনা থাকা প্রয়োজন ছিল, তা কি আছে? থাকলে রোহিঙ্গারা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে কিভাবে? বাংলাদেশের পাসপোর্ট বানায় কিভাবে? এমনিতেও রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে গুম-অপহরণ-খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, রাতে শিবিরগুলো অরক্ষিত হয়ে পড়ে। কিছু সন্ত্রাসী শিবিরগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। তারা যেভাবে চায়, অসহায় সাধারণ রোহিঙ্গাদের সেভাবেই চলতে হয়। সেখানে আগ্নেয়াস্ত্রেরও ব্যবহার হয়। এই অরাজকতা ক্রমেই বাড়ছে এবং বাড়তেই থাকবে। তাই পরিস্থিতি আরো ভয়ংকর হয়ে ওঠার আগেই রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
নিজস্ব নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই বাংলাদেশকে পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ওপরই অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি এই সংকট যেহেতু আঞ্চলিক নিরাপত্তায়ও বড় ধরনের হুমকি, তাই আঞ্চলিক উদ্যোগে সমাধানের চেষ্টাও একই সঙ্গে করে যেতে হবে। আমরা চাই দ্রুত রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
error: আপনি নিউজ চুরি করছেন, চুরি করতে পারবেন না !!!!!!