বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ১০:১১ অপরাহ্ন
Logo
সংবাদ শিরোনাম ::
জাতিসংঘের ৭৬তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ছেন আজ নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ৭৬তম শুরু সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র মন্ত্রীর নতুন বই ‘বাংলাদেশ-একুশ শতকের পররাষ্ট্র নীতি : উন্নয়ন ও নেতৃত্ব’ সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাজবাড়ী জেলাকে মাদকমুক্ত করতে এমপিদের আহবান কোভিড-১৯ ও জলবায়ু বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে জাতিসংঘ মহাসচিবের আহ্বান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অনুষ্ঠিতব্য ৭৬তম অধিবেশনে অংশ নেবে ৮৩ দেশের রাষ্ট্র প্রধান আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করতে হাইকোর্টের রায় অননুমোদিত সুদের ব্যবসা বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

করোনার বিস্তার রোধে কঠোর শর্ত সাপেক্ষে সার্বিক কার্যাবলি ও চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ৩০ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২০

॥স্টাফ রিপোর্টার॥ করোনা ভাইরাসজনিত রোগ বিস্তার রোধ এবং পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার নিম্নলিখিত শর্তসাপেক্ষে দেশের সার্বিক কার্যাবলি এবং জনসাধারণের চলাচলে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ৩০শে জুন পর্যন্ত বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এসব শর্ত পালনে গতকাল ১৫ই জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে ১৯ দফা নির্দেশনা হয়েছে। নির্দেশনাগুলো হচ্ছে :
১। আজ ১৬ই জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। সাপ্তাহিক ছুটি এ নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
২। রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত অতি জরুরী প্রয়োজন ছাড়া(প্রয়োজনীয় ক্রয়-বিক্রয়, কর্মস্থলে যাতায়াত, ঔষধ ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে আসা যাবে না। তবে, সর্বাবস্থায়ই বাইরে চলাচলের সময় মাস্ক পরাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে। অন্যথায় নির্দেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৩। নিষেধাজ্ঞাকালীন জনসাধারণ ও সব কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ জারিকৃত নির্দেশমালা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
৪। হাটবাজার, দোকান-পাটে ক্রয়-বিক্রয়কালে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখা-সহ অন্যান্য স্বাস্থ্য বিধি কঠোরভাবে পালন করতে হবে। শপিংমলের প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা-সহ স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। শপিংমলে আগত যানবাহনসমূহকে অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। হাটবাজার, দোকানপাট এবং শপিংমলসমূহ আবশ্যিকভাবে বিকাল ৪টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে।
৫। আইন-শৃঙ্খলা, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কার্যে নিয়োজিত সংস্থা এবং জরুরী পরিসেবা, যেমন- ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্য সেবা, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরসমূহের (স্থলবন্দর, নদীবন্দর এবং সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবা-সহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতা-বহির্ভূত থাকবে।
৬। সড়ক ও নৌপথে সকল প্রকার পণ্য পরিবহনের কাজে নিয়োজিত যানবাহন যেমন ট্রাক, লরি, কার্গো ভেসেল প্রভৃতির চলাচল অব্যাহত থাকবে।
৭। কৃষি পণ্য, সার, বীজ, কীটনাশক, খাদ্য, শিল্প পণ্য, রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের মালামাল, কাঁচাবাজার, খাবার, ঔষধের দোকান, হাসপাতাল ও জরুরী সেবা এবং এসবের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।
৮। চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স ও কর্মী এবং ঔষধ-সহ চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বহনকারী যানবাহন ও কর্মী, গণমাধ্যম(ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া) এবং ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কে নিয়োজিত কর্মীগণ এ নিষেধাজ্ঞার আওতা বহির্ভূত থাকবে।
৯। ঔষধশিল্প, কৃষি এবং উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলো, উৎপাদন ও রপ্তানিমুখী শিল্প-সহ সকল কলকারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করে চালু রাখতে পারবে। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ কর্তৃক প্রণীত ‘বিভিন্ন শিল্পকারখানায় স্বাস্থ্য বিধি নিশ্চিতকরণে নির্দেশনা’ পালন নিশ্চিত করতে হবে।
১০। নিষেধাজ্ঞাকালে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে না। তবে, অনলাইন কোর্স ও ডিস্টেন্স লার্নিং অব্যাহত থাকবে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ প্রশাসনিক কার্যাবলি চালাতে পারবে।
১১। অঞ্চল ভিত্তিক নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।
১২। অনুমোদিত অঞ্চলে শর্তসাপেক্ষে সীমিত পরিসরে নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন, যাত্রীবাহী নৌযান, রেল ও বিমান চলাচল করতে পারবে। তবে সর্বাবস্থায় মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে।
১৩। নিষেধাজ্ঞাকালে সকল প্রকার সভা-সমাবেশ, গণজমায়েত ও অনুষ্ঠান আয়োজন বন্ধ থাকবে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুশাসন ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে মসজিদসমূহে সর্বসাধারণের জামায়াতে নামাজ আদায় এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপসনালয়সমূহে প্রার্থনা অনুষ্ঠান অব্যাহত থাকবে।
১৪। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক প্রণীত Bangladesh Risk Zone-Based COVID-19 Containment Implementation Strategy/Guide অনুসরণ করে সংক্রমণের ভিত্তিতে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ এর কর্তৃত্ব অনুযায়ী এখতিয়ারবান কর্তৃপক্ষ লাল অঞ্চল (Red Zone), হলুদ অঞ্চল (Yellow Zone), সবুজ অঞ্চল (Green Zone) হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। এখতিয়ারবান কর্তৃপক্ষ লাল অঞ্চল ঘোষিত জেলা/উপজেলা/এলাকা/বাড়ি/মহল্লার জন চলাচল/জীবনযাত্রা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। হলুদ ও সবুজ অঞ্চলের ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
১৫। প্রতিটি লাল জোনের জন্য কোভিড নমুনা পরীক্ষা, কোভিড-ননকোভিড স্বাস্থ্য সেবা প্রটোকল, কোয়ারেন্টিন/আইসোলেশন, অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, জন চলাচল, যান চলাচল, অর্থনৈতিক কর্মকান্ড, খাবার ও ঔষধ সরবরাহ, দরিদ্র লোকদের জন্য মানবিক সহায়তা প্রদান, মসজিদ-মন্দির-অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ধর্মচর্চা, জনসচেতনতা তৈরি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, ব্যাংকিং সুবিধা-সহ আর্থিক প্রতিষ্ঠান/শিল্প প্রতিষ্ঠান/বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি পরিচালনার বিষয়ে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) তৈরি করতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
১৬। সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অঞ্চলভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করার সার্বিক দায়িত্ব থাকবে সিটি কর্পোরেশনের। সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাইরে জেলা প্রশাসন সার্বিক সমন্বয় করবে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, জেলা/উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহ সমন্বিতভাবে এ কার্যক্রম বাস্বায়ন করবে। এ কার্যক্রমে সংসদ সদস্যসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও স্বেচ্ছাসেবী-সহ অন্যদেরকে সম্পৃক্ত করতে হবে।
১৭। লাল অঞ্চলে অবস্থিত সামরিক বা অ-সামরিক সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত বা বেসরকারি দপ্তরসমূহ এবং বসবাসকারী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ সাধারণ ছুটির আওতায় থাকবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
১৮। হলুদ ও সবুজ অঞ্চলে সকল সরকারি/আধাসরকারি/স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসসমূহ নিজ ব্যবস্থাপনায় সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। উক্ত নিষেধাজ্ঞাকালে কেউ কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবে না। ঝুঁকিপূর্ণ, অসুস্থ কর্মচারী এবং সন্তান সম্ভবা নারীরা কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকবেন। এক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্য বিধি নিশ্চিতকরণের জন্য স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে জারিকৃত ১২দফা নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় ক্ষেত্র ছাড়া সকল সভা ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে আয়োজন করতে হবে।
১৯। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অনুরোধ অনুসারে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জোন সংক্রান্ত বিষয়াদি সমন্বয় করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
error: আপনি নিউজ চুরি করছেন, চুরি করতে পারবেন না !!!!!!