সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন
Logo
সংবাদ শিরোনাম ::
ভারতে রেকর্ড সংখ্যক লোক করোনায় সংক্রমিত মিশরে বালুর নিচে সাড়ে ৩ হাজার বছরের বেশী প্রাচীন নগরীর সন্ধান বিশ্বব্যাপী ১দিনে করোনায় নতুন করে ৬ লাখ ৬৭ হাজার আক্রান্ত আর্জেন্টিনায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় কারফিউ ঘোষণা পহেলা বৈশাখে জনসমাগম করা যাবে না : সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিশ্ব ব্যাংকের কাছে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা চেয়েছে অর্থমন্ত্রী কামাল আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে অফিসের সময়সীমা পুননির্ধারণ করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারী নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের আইজিপির নির্দেশ আজ থেকে শুরু হচ্ছে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২৬শে মার্চকে বাংলাদেশ দিবস ঘোষণা করেছেন ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র

রাজবাড়ীর লোকোসেড বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভকে নিজ উদ্যোগে রক্ষণাবেক্ষণ করে চলেছে গোলাম নবী

  • আপডেট সময় শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯

॥স্টাফ রিপোর্টার॥ রাজবাড়ী শহরের বিনোদপুর লোকোসেড এলাকায় রয়েছে জেলার সবচেয়ে বড় বধ্যভূমি। যেখানে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানীদের দোসর অবাঙালী বিহারীরা মুক্তিকামী নিরীহ-নিরস্ত্র বাঙালীদের ধরে নিয়ে নৃশংসভাবে জবাই করে হত্যার পর কূপে ফেলে দিত।
কয়েক বছর আগে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে একটি স্মৃতিস্তম্ভ, যেটি লোকোসেড বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে পরিচিত। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসসহ দু’একটি জাতীয় দিবসে সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচী পালন করা হলেও বছরের বাকী সময়গুলো স্মৃতিস্তম্ভ ও সংলগ্ন চত্বরটি অযতেœ-অবহেলায় পড়ে থাকতো।
বিষয়টি নাড়া দেয় পাশেই রেলওয়ের জমিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করা দরিদ্র রিক্সা চালক গোলাম নবী (৫০)কে। একপর্যায়ে সে নিজ উদ্যোগে স্মৃতিস্তম্ভ ও তৎসংলগ্ন চত্বরটি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি বেশ কিছু ফুলের চারাও রোপণ করে। এর ফলে স্মৃতিস্তম্ভটি এখন দর্শনীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সৌন্দর্য মন্ডিত হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি লোকোসেড বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে দেখা যায়, গোলাম নবী আপন মনে স্মৃতিস্তম্ভ চত্বরের ঘাস-আগাছা পরিষ্কার করছে এবং রোপণকৃত ফুল গাছের চারাগুলোতে পানি দিচ্ছে। তার এই স্বেচ্ছাশ্রমের বিষয়ে জানতে চাইলে গোলাম নবী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এখানে অসংখ্য বাঙালীকে ধরে এনে বিহারীরা জবাই করে হত্যা করেছে। তাদের স্মৃতি রক্ষার্থে এই স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু এটিকে দেখশোনার করার জন্য কোন লোক নিয়োগ না দেয়ায় সারা বছরই অতন্ত-অবহেলায় পড়ে থাকতো। অনেকে এর রেলিংয়ে কাপড়-চোপড়, গোবরের ঘুটে শুকাতো, গরু-ছাগল বেঁধে রাখতো, যা দেখতে খুবই দৃষ্টিকটু লাগতো। তাই আমি রিক্সা চালানোর ফাঁকে ফাঁকে এটিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখি। পাশাপাশি আমি এটির সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য কিছু ফুলের চারাও লাগিয়েছি। কারো সযোগিতা পাই, আর না পাই একজন বঙ্গবন্ধুপ্রেমী হিসেবে, স্বাধীনতার স্বপক্ষের মানুষ হিসেবে যতদিন বেঁচে আছি স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে এটির রক্ষণাবেক্ষণ করে যাবো।
স্থানীয় বাসিন্দা নরেন রায়, বাবলু শেখ ও নিরোদ চন্দ্র রায়সহ কয়েকজন বলেন, গোলাম নবীর এই কাজ নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য। সরকারীভাবে দেখাশোনার জন্য এখানে একজন লোক নিয়োগ দিলে আরো ভালো হবে।
এ ব্যাপারে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আবুল হোসেন বলেন, লোকোসেড বধ্যভূমি রাজবাড়ী জেলার সবচেয়ে বড় বধ্যভূমি। দেখাশোনা করার লোক না থাকায় স্মৃতিস্তম্ভটি অনেকটাই অরক্ষিত হয়ে পড়েছিল। গোলাম নবী যে কাজ করছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।
ব্যক্তিগতভাবে জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলে গোলাম নবীকে স্মৃতিস্তম্ভটি দেখাশোনার দায়িত্ব প্রদান ও তার জন্য কিছু পারিশ্রমিকের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবো।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
error: আপনি নিউজ চুরি করছেন, চুরি করতে পারবেন না !!!!!!