বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন
Logo
সংবাদ শিরোনাম ::
বিশ্বব্যাপী ওমিক্রন সংক্রমণ বৃদ্ধিতে আইসোলেশন মেয়াদ অর্ধেক করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ওমিক্রন ভেরিয়েন্ট ডেল্টা ও বিটার তুলনায় তিন গুণের বেশী পুনঃ সংক্রমন ঘটাতে পারে : গবেষণা প্রতিবেদন জাতিসংঘ ভবনের বাইরে এক বন্দুকধারী গ্রেফতার শান্তি চুক্তির পঞ্চম বার্ষিকী উপলক্ষে কলম্বিয়া সফর জাতিসংঘ মহাসচিব সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানগণের সাক্ষাৎ করোনা ভাইরাসের সংক্রমন বেড়ে যাওয়ায় অস্ট্রিয়ায় লকডাউন করোনা সংক্রমণ বাড়ায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ ভারতে নতুন করে ১০ হাজার ৩০২ জন করোনায় আক্রান্ত নভেম্বর মাসজুড়ে করাঞ্চলে কর মেলার সেবা পাবেন করদাতারা ঔপনিবেশিক আমলের ফৌজদারী কার্যবিধি যুগোপযোগী হচ্ছে

রাজবাড়ী সদরে আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ইমদাদুল হক ও পিয়াল বিজয়ী হলেও ভোট পেয়েছেন কম

  • আপডেট সময় সোমবার, ২৫ মার্চ, ২০১৯

॥স্টাফ রিপোর্টার॥ পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসীল ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচনের মাঠে রাজবাড়ী সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী ইমদাদুল হক বিশ্বাস এবং ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী রকিবুল হাসান পিয়ালের সরব অবস্থান ছিল। আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় তারা বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে নামেন এবং নানা প্রতিকূল পরিবেশ অতিক্রম করে বিজয়ী হন।
এবারের নির্বাচনে রাজবাড়ী সদর উপজেলায় আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রাথী ও পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সফিকুল ইসলাম সফি, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ও জেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক এডঃ মোঃ সফিকুল হোসেন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ও জেলা যুব মহিলা লীগের আহবায়ক মীর মাহফুজা খাতুন মলির ডরাডুবিতে দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। কোন কোন নেতা গতকাল রবিবার রাতেই ফেসবুকে স্ট্যাটাস নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১৯শে ফেব্র“য়ারী তারিখে দলীয় প্রতীক বিহীন অনুষ্ঠিত রাজবাড়ী সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ও বর্তমান এডঃ এম.এ খালেক(দোয়াত-কলম) প্রতীকে ৭৩হাজার ৮১৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী এডঃ ইমদাদুল হক বিশ্বাস(আনারস) প্রতীকে পেয়েছিলেন ৫৯হাজার ৪৩৪ ভোট। তাদের ভোটের ব্যবধান ১৪হাজার ৩৮২টি।
তবে এবারের নির্বাচনে তিনি আওয়ামীলীগের প্রার্থী মনোনয়ন বঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী এস.এম নওয়াব আলীকে ৭হাজার ৫৯ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে চতুর্থ বারেরমত বিজয়ী হন। আর নৌকার প্রার্থী মোঃ সফিকুল ইসলাম সফি ১৮হাজার ৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে যান।
গতকাল ২৪শে মার্চ-২০১৯ তারিখে অনুষ্ঠিত পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী এডঃ ইমদাদুল হক বিশ্বাস(আনারস) প্রতীকে ২৬হাজার ৮৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচন হন। তবে ২০১৪ সালের নির্বাচনের চেয়ে তিনি এবার ৩২হাজার ৫৩৫ ভোট কম পেয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৩জন প্রার্থীর(ইমদাদুল হক বিশ্বাস, এসএম নওয়াব আলী ও সফিকুল ইসলামের) প্রাপ্ত মোট বৈধ ভোট সংখ্যা ৫৬হাজার ৭৪২টি। যা ২০১৪ সালে ইমদাদুল হক বিশ্বাস প্রাপ্ত ভোটের চেয়ে ২৬৯২ ভোট কম।
এছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২০১৪ সালের ১৯শে ফেব্র“য়ারী তারিখের নির্বাচনে বিজয়ী হন জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা সৈয়দ আহম্মদ খান(বই)। তিনি বই প্রতীকে পেয়েছিলেন ৪১ হাজার ৮৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামীলীগ সমর্থিত মোঃ রকিবুল হাসান পিয়াল(তালা) পেয়েছিলেন ৪১হাজার ২৮০ ভোট। উভয়ের ভোটের ব্যবধান মাত্র ৫৭২টি।
তবে গতকাল ২৪শে মার্চ-২০১৯ তারিখে অনুষ্ঠিত পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী মোঃ রকিবুল হাসান পিয়াল(তালা) প্রতীক পেয়েছেন ৩৭হাজার ১১০টি। এবার তিনি ৪হাজার ১৭০ ভোট কম পেয়েছেন।
২০১৪ সালে ভাইস চেয়ারম্যান পদে ওয়ার্কার্স পার্টির সমর্থনে অংশ নেওয়া এডঃ সফিকুল হোসেন(উড়োজাহাজ) পেয়েছিলেন ১৮হাজার ১৪৮ ভোট। তবে গতকাল ২৪শে মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি আওয়ামীলীগের সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে ২৪হাজার ১৪ ভোট পেলেও (গতবারের চেয়ে ৪হাজার ১৭০ ভোট বেশী) স্বতন্ত্র প্রার্থী রকিবুল হাসান পিয়ালের কাছে ১৩হাজার ৯৬ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন।
নির্বাচনে বিজয়ী চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদ্বয় বলেছেন, ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটারের উপস্থিতি বেশী বেশী হলে তারা আরো বিপুল ভোট পেতেন। অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় তারা নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
error: আপনি নিউজ চুরি করছেন, চুরি করতে পারবেন না !!!!!!