সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ১১:৩০ অপরাহ্ন
Logo
সংবাদ শিরোনাম ::
শান্তি চুক্তির পঞ্চম বার্ষিকী উপলক্ষে কলম্বিয়া সফর জাতিসংঘ মহাসচিব সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানগণের সাক্ষাৎ করোনা ভাইরাসের সংক্রমন বেড়ে যাওয়ায় অস্ট্রিয়ায় লকডাউন করোনা সংক্রমণ বাড়ায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ ভারতে নতুন করে ১০ হাজার ৩০২ জন করোনায় আক্রান্ত নভেম্বর মাসজুড়ে করাঞ্চলে কর মেলার সেবা পাবেন করদাতারা ঔপনিবেশিক আমলের ফৌজদারী কার্যবিধি যুগোপযোগী হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতা গত বছর বেড়েছে ৩০ শতাংশ জাতিসংঘের ৭৬তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ছেন আজ নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ৭৬তম শুরু

গোয়ালন্দ হাসপাতাল ৫বছর ধরে অপারেশন বন্ধ॥চিকিৎসকের অভাবে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

॥আবুল হোসেন/হেলাল মাহমুদ॥ রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার ৫০শয্যা বিশিষ্ট সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শূন্যসহ অন্যান্য চিকিৎসক অন্যত্র যাওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে। মাত্র একজন চিকিৎসক দিয়ে চলছে স্বাস্থ্যসেবা। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও সার্জারী, গাইনী ও এনেসথিসিয়া চিকিৎসকের অভাবে সব ধরনের অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে দীর্ঘ পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্র জানায়, হাসপাতালটি ৩১থেকে ৫০শয্যায় উন্নীত করণের ভবন নির্মাণ ও প্রশাসনিক অনুমোদন হয় ২০০৭ সালের ২৬ ডিসেম্বর। প্রায় ৩কোটি ৮২লাখ ৭২হাজার টাকা ব্যায়ে ২০০৮সালের ১০ জুন শুরু হয়ে কাজ শেষ হয় ২০১১ সালের ২২সেপ্টেম্বর। ৫০শয্যার কার্যক্রম হয় ২০১৩ সালের ১ই মে। বিশেষজ্ঞসহ চিকিৎসা কর্মকর্তার ২৫টি পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন ৪জন। আবাসিক কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন সাহিদা পারভীন। জুনিয়র শিশু বিশেষজ্ঞ নাজনীন সরকার, হোমিও প্যাথিক চিকিৎসক সাবিনা ইয়াসমিন ও ডেন্টাল সার্জন সুজিত সীনহা থাকলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব ও অন্যান্য সমস্যা জনিত কারণে তাদের অনেকটা অলস সময় পার করতে হচ্ছে। এছাড়া গত ৮ ডিসেম্বর সুমনুল হক নামের আরেকজন চিকিৎসা কর্মকর্তা হিসেবে হাসপাতালে যোগদান করলেও তিনি ওই দিনই বিনোদন ছুটিতে চলে যান। সর্বশেষ গত ৫ই ডিসেম্বর অন্যত্র বদলি হন আন্তঃবিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা কাজী শফিউল আজম।
এছাড়াও চার ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মধ্যে উজানচরের চিকিৎসা কর্মকর্তা মির্জা মোহাম্মদ আসিফ আকবর গত বছর ২৫শে মে এবং দেবগ্রাম ইউপির সুলতান উদ্দিন গত বছর ৭ই জুন রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে, দৌলতদিয়া ইউপির মাহবুবা সুলতানা গত ২৯মে যোগদান করে ওইদিন ঢাকার সোহরাদী হাসপাতালে এবং ছোটভাকলা ইউপির রেজয়ানা শারমিন সহকারী সার্জন হিসেবে ২০১৩ সালের ১৪ই ডিসেম্বর যোগদান করে ওইদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেষণে যান।
সুত্র জানায়, আগষ্ট থেকে চিকিৎসক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। জুনিয়র কনসালটেন্ট মেডিসিন, সার্জারী, এ্যানেসথেসিয়া, চক্ষু ও অর্থ সার্জারীর পদ দীর্ঘদিন ধরে শূণ্য। গত ২৮শে আগষ্ট আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়ে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে, চিকিৎসা কর্মকর্তা আশিষ কুমার বড়াল ও প্যাথলজিষ্ট রাজীব দে সরকার অন্যত্র বদলি হন। ৪ঠা জুলাই থেকে জরুরী বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা এবং গত বছর ৯সেপ্টেম্বর থেকে এনেসথেটিষ্টের পদ শূন্য রয়েছে। চিকিৎসক ইউনুস আলী মোল্যা জুনিয়র কনসালটেন্ট (চর্ম ও যৌনরোগ) হিসেবে যোগদান করে গত বছর ২৯ জুলাই রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে, চলতি বছর ৬ই এপ্রিল শুভংকর দাস যোগদান করে ওইদিন রাষ্টপ্রতি কার্যালয়ের আপন বিভাগে, জুনিয়র কনসালটেন্ট(গাইনী) ফারজানা ইসলাম গত বছর ২৩ জুন কমলাপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রেষণে যান। তাঁরা প্রত্যেকে বেতন ভাতা তুলেন গোয়ালন্দ থেকে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে ২০১১ সালের ২৪শে মার্চ শহিদুল ইসলাম যোগদান করে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের অস্ত্রপচার শুরু করেন নিজ উদ্যোগে। ওই বছর ২২ সেপ্টেম্বর অন্যত্র বদলি হওয়ায় অস্ত্রপচার বন্ধ হয়ে যায়।
এক সিনিয়র নার্স বলেন, লোকবলের অভাবে অন্তঃস্বত্ত্বা নারীর অস্ত্রপচার করা সম্ভব হচ্ছেনা। উপজেলাবাসীর স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার পাশাপাশি ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় হাসপাতালের গুরুত্ব অনেক।
হাসপাতালে দেখা যায়, জরুরী ও বর্হিবিভাগের সামনে রোগীদের ভিড়। রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর থেকে ডাক্তার দেখাতে এসেছেন রহমান মন্ডল(৭৫)। তিনি বলেন, বেলা সাড়ে দশটায় এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। চুলকানি ও শ্বাসকষ্ট। কিন্তু ডাক্তার দেখাতে পারিনি।
খানখানাপুর থেকে আসা নুরজাহান বেগম জানান, সকালে এসে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও ডাক্তার না পেয়ে চলে যাচ্ছি। ৫নম্বর কক্ষে রোগী দেখছেন উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসক আশরাফুজ্জামান। তিনি জানান, সকাল সাড়ে নয়টা থেকে দুপুর বারোটা পর্যন্ত ৩৮জন রোগী দেখেছেন। দুইজনের পুরাতন শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যাথার কারণে ফরিদপুর স্থানান্তর করা হয়েছে।
৬নম্বর কক্ষে রোগী দেখাকালে উপ-সহকারী কমিউনিটি চিকিৎসক বাচ্চু মোল্যা বলেন, বিশ্রাম নেয়ার সময় পাইনি। চিকিৎসকের অভাবে আমাদের ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য থেকে আনা হয়েছে। পাশের কক্ষে রোগী দেখছিলেন একমাত্র চিকিৎসা কর্মকর্তা সাহিদা পারভীন। রোগীর চাপে কথা বলার পরিবেশ নেই। সকালে ভর্তিরোগী দেখা, চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র দেওয়া, জরুরী রোগীকে অন্যত্র পাঠানো ও শেষে বর্হিবিভাগের রোগী দেখা। সব একাই তিনি সামাল দিচ্ছিলেন।
ডেন্টাল সার্জন সুজিত সীনহা বলেন, যন্ত্রপাতি না থাকায় আমাকে বসেই সময় কাটাতে হয়। পারলে অন্য রোগী দেখার চেষ্টা করি। হোমিও চিকিৎসক থাকলেও এ্যালোপেথিকের রোগী কি করে দেখবেন? শিশু জুনিয়র কনসালটেন্ট একজন আছেন। কিন্তু তিনি সাধারণ রোগী দেখেননা। তাহলে কি করে একজন চিকিৎসক দিয়ে হাসপাতাল চলবে?
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন, চিকিৎসক সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তবে ইতিমধ্যে গত ৮ই ডিসেম্বর একজন মেডিকেল অফিসার যোগদান করেন। তবে তিনি ওই দিনই বিনোদন ছুটিতে চলে যান। চলতি সপ্তাহে আরো চারজন মেডিকেল অফিসারের যোগদানের কথা রয়েছে।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম নুরুল ইসলাম বলেন, ৫০ শয্যার হাসপাতাল। কিন্তু চিকিৎসক মাত্র একজন। শুনেছি আরো একজন এসেছেন। কিন্তু তিনি যোগদান করেই চলে গেছেন। এছাড়া আরো তিন জন থাকলেও এদের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় এবং অন্যান্য সমস্যার কারণে চিকিৎসা দিতে পারছেনা। বিষয়টি স্বাস্থ্যসেবা কমিটির সভাসহ স্বাস্থ্য বিভাগের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ও রাজবাড়ীÑ১ আসনের সংসদ সদস্যকে একাধিকবার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জাননো হয়েছে।
রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ রহিম বকস সাংবাদিকদের বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালকের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন চিকিৎসকের অর্ডার হয়েছে। খুব শীঘ্রই তারা যোগদান করবেন। অন্যান্য আরো চিকিৎসক নিয়োগের ব্যাপারেও চেষ্টা চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
error: আপনি নিউজ চুরি করছেন, চুরি করতে পারবেন না !!!!!!