fbpx
শনিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২০, ০৬:০৯ অপরাহ্ন
Logo
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজবাড়ীর পাংশায় দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্রের উদ্বোধন গোয়ালন্দ আব্দুল হালিম মিয়া কলেজের প্রশাসনিক ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন চীনের করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষায় আমাদের করণীয়- রাজবাড়ী থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে ৪জন মাদক বিক্রেতাসহ ৭জন গ্রেফতার কালুখালীতে নানা আয়োজনে ছাত্রলীগের জন্মদিন পালিত রাজবাড়ী সদরের রামচন্দ্রপুর থেকে গাঁজাসহ বিক্রেতা সুমন গ্রেফতার ফরিদপুর পৌরসভায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে সেবা প্রদানের বিষয়ে অবহিতকরণ সভা গোয়ালন্দে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির পরিচিতি সভা ফরিদপুরের ভাটিলক্ষ্মীপুর দরবার শরীফে বাৎসরিক ওরশ অনুষ্ঠিত রাজবাড়ীতে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে লেখা বই পুরস্কার হিসেবে পেল ছাত্রীরা

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ উদযাপনের কাউন্টডাউন শুরু হচ্ছে আজ

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২০

॥স্টাফ রিপোর্টার॥ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবর্ষ উদযাপনের কাউন্টডাউন আজ ১০ই জানুয়ারী সারাদেশে শুরু হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয়ভাবে আজ শুক্রবার বিকেলে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে মুজিব বর্ষের কাউন্টডাউন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এরপর প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও সকল পাবলিক প্লেসে একইসঙ্গে কাউন্টডাউন শুরু হবে।
এদিন সারা দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের ২৮টি পয়েন্টে, বিভাগীয় শহরগুলো, ৫৩ জেলা ও দুই উপজেলা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীতে মোট ৮৩টি পয়েন্টে কাউন্টডাউন ঘড়ি বসানো হবে।
২০২০ সালের ১৭ই মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মগ্রহণের শততম বছর পূর্ণ হবে। বাংলাদেশ ২০২০ সালের ১৭ই মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ই মার্চ পর্যন্ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই জন্ম শতবর্ষ উদযাপন করবে।
বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি বাস্তবায়ন কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা, আওয়ামী লীগের গত সরকারের ১০জন মন্ত্রী, বর্তমান সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, ঢাকার দুই মেয়র, তিন বাহিনীর প্রধান, পুলিশ মহাপরিদর্শক, কয়েকটি বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য, দু’জন সাবেক গভর্নর, বিভিন্ন ধর্মের মানুষের প্রতিনিধি এবং বেশ কয়েকজন সাংবাদিক, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীকে রাখা হয়েছে এই কমিটিতে।
প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব ড.কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীকে জাতীয় কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়াও তিনি জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকায় রয়েছেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী জাতীয় উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে লন্ডন ও নয়াদিল্লি হয়ে ১৯৭২ সালের এই দিনে স্বাধীন স্বদেশের বুকে ফিরে আসেন। যেহেতু ১০ই জানুয়ারী ঐতিহাসিক দিন, তাই বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর কাউন্টডাউন এই ঐতিহাসিক দিনেই শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিকেলে মুজিববর্ষের কাউন্টডাউন অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করবেন।
কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী জানান, কাউন্টডাউনের জন্য বিভাগীয় শহরগুলিতে বিভিন্ন জনসমাগমের জায়গায়, সারা দেশে জেলা, সিটি কর্পোরেশন এবং উপজেলায় এই ডিভাইস বসানো হবে।
তিনি বলেন, জন্মবার্ষিকী উদযাপনে জনগণের সামনে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম উপস্থাপন এবং ত্বরান্বিত উন্নয়ন কার্যক্রম এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত ‘সোনার বাংলা’ নির্মাণের জন্য পরিসেবাগুলো তুলে ধরা হবে।
জাতির পিতার শততম এ বার্ষিকী স্মরণীয় করে রাখতে সরকারের পাশাপাশি দলীয়ভাবেও কর্মসূচী নিয়েছে আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ১০ই জানুয়ারী আতশবাজি উৎসবের মাধ্যমে শুরু হবে মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা।
দেশ-বিদেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, প্রমাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, বঙ্গবন্ধুর নামে আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তন, ‘গ্রিন ফ্যাক্টরী অ্যাওয়ার্ড’ এবং হাতে হাত রেখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতিকৃতি গড়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্তকরণ। এছাড়া কনসার্টসহ নানা আনন্দ আয়োজন ও রক্তদানসহ সেবাধর্মী কর্মসূচি থাকবে।
১৭ই মার্চ মূল অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং বঙ্গবন্ধুর সময়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ব্যক্তিত্বকে। তাদের মধ্যে আছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন, জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ প্রমুখ।
কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, আগামী ১৭ই মার্চ থেকে মুজিববর্ষ শুরু হচ্ছে। দেশ-বিদেশে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করা হবে জাঁকজমকপূর্ণভাবে। এ উদযাপনে সর্বস্তরের জণগণকে সম্পৃক্ত করা হবে। দেশ-বিদেশে নানা আয়োজনে বিভিন্ন দেশের স্বনামধন্য ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত থাকবেন। সেই অনুযায়ীই আমাদের পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।
জন্মশতবার্ষিকীর মূল আয়োজন শুরু হবে ১৭ই মার্চ সূর্যোদয়ের সময়ই। সকালে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনীর তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল অনুষ্ঠান। এদিন ঢাকা ও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় একই সঙ্গে অনুষ্ঠান শুরু হবে। সকালে টুঙ্গিপাড়ায় থাকবে জাতীয় শিশু দিবসের নানান আয়োজন। এরপর বিকালে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হবে মূল অনুষ্ঠান। প্রকাশ করা হবে জন্মশতবার্ষিকীর বিভিন্ন স্যুভেনির, স্মারক বক্তৃতা, দেশি-বিদেশি শিল্পীদের সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সারা দেশেই এদিন আয়োজন করা হবে আনন্দ র‌্যালি। সাজানো হবে গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনা, সড়কদ্বীপ। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১৭ই মার্চের মূল আয়োজনে থাকবেন বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান, বঙ্গবন্ধুর সমসাময়িক সময়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ব্যক্তিত্বরা।
বাংলাদেশের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম ঘটনা হচ্ছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের এই ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির কয়েক হাজার বছরের সামাজিক-রাজনৈতিক স্বপ্নসাধ পূরণ হয়। আর এই স্বপ্নসাধ পূরণ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
একাত্তরের ২৫শে মার্চ দিবাগত রাতে অপারেশন সার্চলাইট নামে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী বাঙালিদের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে নির্বিচারে গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করতে থাকে। এমতাবস্থায় ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দেন। এর আগে নিয়মতান্ত্রিকভাবে স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি প্রথমে বাঙালি জাতি গঠনের উপর জোর দেন। ধীরে ধীরে জনগণের মধ্যে স্বাধীনতার তীব্র আকাঙ্খা জাগ্রত করতে শুরু করেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে রেসকোর্স ময়দানে(বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের কর্মসূচী ঃ আজ ১০ই জানুয়ারী প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ক্ষণগণনা যন্ত্রের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা উদ্বোধন করার সঙ্গে সঙ্গে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মুখে বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতির পাশে স্থাপিত ক্ষণগণনা যন্ত্রে ক্ষণগণনা(কাউন্ট ডাউন) কার্যক্রম শুরু হবে। ক্ষণগণনা শুরুর প্রাক্কালে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন এবং অনুষ্ঠান শেষে আতশবাজী ফোটানো হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
error: আপনি নিউজ চুরি করছেন, চুরি করতে পারবেন না !!!!!!