মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০, ১১:৫০ পূর্বাহ্ন
Logo
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোনে ভারতের মোদীর ঈদ শুভেচ্ছা পবিত্র ঈদুল ফিতরে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা ও ঈদ উপহার রাজবাড়ীতে দুস্থদের মধ্যে অর্থ-শাড়ী বিতরণ করলেন সংসদ সদস্য সালমা চৌধুরী রুমা রাজবাড়ী জেলার প্রায় সকল মসজিদে ও পারিবারিকভাবে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রে ঘরোয়া পরিবেশে ঈদ-উল ফিতর উদযাপন করলো মুসলিমরা ফরিদপুরে সামাজিক দূরত্ব মেনে মসজিদে মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে করোনার উপসর্গ নিয়ে আরো ১জনের মৃত্যু বালিয়াকান্দির সাধুখালীতে লকডাউনে থাকা ১৯টি পরিবারকে প্রশাসনের খাদ্য সহায়তা করোনা মোকাবেলায় কৃষি বাজারের করণীয় পাংশায় করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যবসায়ীদের পাশে এমপি পুত্র মিতুল

বালিয়াকান্দিতে জল মহাল ইজারায় অংশ নিয়ে আর্থিক ক্ষতির শিকার মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি

  • আপডেট সময় শনিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৯

॥সুশীল দাস॥ রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের ‘হাতী মোহন খামার মাগুরা খাল’ জল মহালটি বাংলা ১৪২৫ সাল থেকে ১৪২৭ সাল পর্যন্ত ৩বছরের জন্য ইজারা দেয়ার জন্য গত ১১/০২/২০১৮ইং তারিখে উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
জল মহালটির কাঙ্খিত সরকারী মূল্য দেখানো হয় ৮৫ হাজার ৫০ টাকা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ‘মিজানপুর, আটদাপুনিয়া, রাজবাড়ী টাউন কমিটি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর পক্ষে সভাপতি শচীন্দ্রনাথ সরকার পে-আউট (জামানত) বাবদ ৬৮ হাজার টাকা জমা প্রদান সাপেক্ষে দরপত্র দাখিল করে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ইজারা লাভ করেন। এরপর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ১৩/০৩/২০১৮ইং তারিখের পত্র মোতাবেক ৫কার্যদিবসের মধ্যে ইজারা মূল্য বাবদ ৩ লক্ষ ৪০ হাজার ২শত টাকা, ১৫% মূল্য সংযোজন কর বাবদ ৫১ হাজার ৩০ টাকা এবং ৫% উৎসে কর বাবদ ১৭ হাজার ১০ টাকাসহ সর্বমোট ৪ লক্ষ ৮ হাজার ২৪০ টাকা সরকারী চালান মূলে জমা প্রদান পূর্বক ইজারা চুক্তি সম্পাদন বাবদ ৩শত টাকা মূল্যের নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প প্রদান করেন। কিন্তু তারপরও তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুম রেজা ইজারা চুক্তি সম্পাদন ও জল মহালের দখল বুঝিয়ে না দিয়ে শচীন্দ্রনাথ সরকারকে নানা অজুহাতে ঘুরাতে থাকেন। ১০ মাস ঘুরার পর একপর্যায়ে শচীন্দ্রনাথ সরকার ২৩/০১/২০১৯ইং তারিখে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর ১৪২৫ বাংলা সনের ইজারা মূল্য ও জামানত বাবদ পরিশোধকৃত অর্থসহ ক্ষতিপূরণ দাবী করে লিখিত আবেদন করলে সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ০৪/০২/২০১৯ইং তারিখে শচীন্দ্র নাথ সরকারের বরাবর একটি নোটিশ দিয়ে ১১/০২/২০১৯ইং তারিখে শুনানী গ্রহণের জন্য তার কার্যালয়ে হাজির হতে বলেন। শচীন্দ্র নাথ সরকার শুনানীতে অংশগ্রহণ করলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ব্যাক ডেটে ইজারা দলিলে স্বাক্ষর করে জলমাহল বুঝে নিতে এবং পরবর্তী বছরের (বাংলা ১৪২৬ সন) ইজাহার অর্থ পরিশোধ করতে বলেন। শচীন্দ্র নাথ সরকার এতে সম্মত না হয়ে ১০ মাস জলমহালটি হস্তান্তর না করায় সমিতির ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ১৪২৫ বাংলা সনের পরিশোধকৃত ইজারার অর্থ ১৪২৬ সনের ইজারা মূল্যের সাথে সমন্বয় করে জলমহালটি হস্তান্তর করার অনুরোধ জানান। কিন্তু তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এই আবেদনের কোন তোয়াক্কা না করে ০৯/০৪/২০১৯ ইং তারিখে একতরফাভাবে একটি পত্র দিয়ে শচীন্দ্র নাথ সরকারের দেয়া জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত পূর্বক জল মহালটির ইজারা বাতিল করে দেন। পরবর্তীতে শচীন্দ্র নাথ সরকার মহামান্য হাইকোর্টে ১০০৪৭ নং রিট মামলা দায়ের করলে হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ এবং বিচারপতি মাহমুদ হাসান তালুকদারের বেঞ্চ ২০/১০/২০১৯ইং তারিখে দেয়া আদেশে বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ০৯/০৪/২০১৯ইং তারিখের লীজ বাতিলের চিঠির বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশসহ ৪সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের জবাব দেয়ার নির্দেশ দেন। তা সত্ত্বেও জলমহালটি শচীন্দ্র নাথ সরকারের সমিতির অনুকূলে বন্দোবস্ত দেয়া হয়নি। এভাবে সরকারী ইজারা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী দরপত্রে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে সকল নিয়ম-নীতি মেনে জামানত, লীজের অর্থ, মূল্য সংযোজন ও উৎসে করের টাকা জমা প্রদান এবং মহামান্য হাইকোর্টে রিট মামলা করে নিজেদের অনুকূলে রায় পাওয়ার পাশাপাশি জেলা প্রশাসক, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন মহলের নিকট একের পর আবেদন ও দ্বারে দ্বারে ঘুরেও তারা কোন প্রতিকার পাননি।
সর্বশেষ গত ০৫/১১/২০১৯ইং তারিখে শচীন্দ্র নাথ সরকার পুরো বিষয়টি বর্ণনা করে জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত আবেদন করেও কোন এখন পর্যন্ত কোন প্রতিকার পাননি।
এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত ‘মিজানপুর, আটদাপুনিয়া, রাজবাড়ী টাউন কমিটি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর সভাপতি শচীন্দ্র নাথ সরকার জেলা প্রশাসক ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
error: আপনি নিউজ চুরি করছেন, চুরি করতে পারবেন না !!!!!!