বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২০, ০৩:৫৯ অপরাহ্ন
Logo
সংবাদ শিরোনাম ::
নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে শেখ কামালের ৭১তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন কামাল বেঁচে থাকলে দেশকে অনেক কিছু দিতে পারতো : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিনহা হত্যাকান্ডে তদন্তে যাদের নাম আসবে তাদের সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে : যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দু’বাহিনী প্রধান বৈরুত বন্দরে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৪জন বাংলাদেশী নিহত : আহত ১০০ জন করোনা মহামারির মধ্যে অর্থনৈতিক ধস বিশ্বে সহিংসতা আরো বাড়িয়ে দেবে : জাতিসংঘ পুলিশের গুলিতে নিহত সাবেক মেজর সিনহার মাকে প্রধানমন্ত্রীর ফোন : দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আশ্বাস জরুরী প্রয়োজন ছাড়া রাত ১০টার পর বাইরে না যাওয়ার নির্দেশনা॥দোকানপাট রাত ৮টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে রাজবাড়ীর মিজানপুর ইউনিয়নে ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত॥প্রশাসন নীরব! বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা বাড়াতে বিশ্ব ব্যাংকের ২০ কোটি ২০ লাখ ডলার অনুমোদন বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশের জনগণ সব সম্ভাবনা হারিয়ে ফেলে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাহাদুরপুর প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফরিদা আক্তারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের তদন্ত শুরু

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৯

॥এম.এইচ আক্কাছ॥ রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার বাহাদুরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদা আক্তারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
গোয়ালন্দ উপজেলার সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান খান গতকাল ২রা অক্টোবর দুপুরে সরেজমিনে বাহাদুরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, শিক্ষক ও স্থানীয়দের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
বাহাদুরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদা আক্তারের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর পক্ষে বালিয়াডাঙ্গী গ্রামের জনৈক রফিকুল ইসলাম গত ৯ই সেপ্টেম্বর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর নানাবিধ দুর্নীতি-অনিয়মের লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের অনুলিপি বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করা হয়।
অভিযোগে প্রধান শিক্ষক ফরিদা আক্তারের বিরুদ্ধে নিজের কাছে প্রাইভেট পড়া ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করা, বিদ্যালয় চলাকালে অফিস কক্ষে বসে ফেসবুক চালানো, চ্যাটিং করা, গল্প করা, আড্ডা দিয়ে সময় কাটানো, ২০১৮ সালে বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানের নামে স্থানীয়দের কাছ থেকে নেয়া অনুদানের ৫০ হাজার টাকা ও শিশু শ্রেণীর আলমারী কেনার জন্য স্থানীয় সমাজসেবক আঃ হালিম মোল্লার দেয়া অনুদানের ৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বরাদ্দকৃত স্লীপের ৭০ হাজার টাকা দিয়ে মালামাল না কিনে আত্মসাৎ করা, স্কুলের প্রধান শিক্ষকের চাকরীর পূর্বে গোয়ালন্দ সোনালী ব্যাংকে চাকরী করার সময় অনৈতিক কর্মে লিপ্ত থাকা এবং শিক্ষা অফিসে কাজের কথা বলে বিদ্যালয়ের বাইরে গিরে সময় কাটানোসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়। বিগত ২০১৭ সালের মার্চ মাসের ২২ তারিখে তিনি বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে এসকল অনিয়ম ও দূনীতি করে আসছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে গোয়ালন্দ উপজেলা শিক্ষা অফিসকে তদন্তের জন্য নির্দেশ দেয়া হলে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান খান আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তের বিষয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদ্য বিদায়ী সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাসার মিয়া বলেন, প্রধান শিক্ষক ফরিদার আক্তার কমিটির কারো তোয়াক্কা না করে স্লীপের ৭০ হাজার টাকার মধ্যে নিজেই সামান্য কিছু টাকা ব্যয় করে বাকী টাকার ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরী করে আত্মসাৎ করেছে। গত বছর বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যের আগমনের অজুহাতে ৫০/৬০ হাজার টাকা উত্তোলন করে সেই টাকার কোন হিসাব দেননি। তাছাড়া তিনি বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন সময়ে নিজ অফিস কক্ষে ফেসবুকে চ্যাটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা পুরোপুরি সঠিক।
বিদ্যালয়ের একাধিক সহকারী শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেন। মাত্র একজন সহকারী শিক্ষক জালাল উদ্দিন অভিযোগের বিষয় মিথ্যা দাবী করে প্রধান শিক্ষকের পক্ষে সাফাই গান।
বিদ্যালয়ের একজন ছাত্রীর অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রধান শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ার সময় তিনি তার মেয়েকে প্রশ্নপত্রের সাথে মিল করা উত্তরপত্র সরবরাহ করা হয়েছিল।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ফরিদা আক্তার তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক। বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে আমার বিরুদ্ধে সাবেক সভাপতি ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন।
তদন্তের বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার আসাদুজ্জামান খান বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে তিনি প্রধান শিক্ষক ফরিদা আক্তারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছেন। গতকাল ২রা অক্টোবর তদন্তের সময় তিনি শিক্ষক, পরিচালনা কমিটিসহ স্থানীয়দের লিখিত বক্তব্য নিয়েছেন। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর