॥প্রতিনিধি॥ মশা’র যন্ত্রণায় রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলাবাসী অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। শহর কিংবা গ্রামাঞ্চল কোন জায়গার মানুষই মশার থেকে নিস্তার পাচ্ছে না। বাসা-বাড়ী, দোকান-পাট, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, হাসপাতাল সর্বত্রই মশার অসহনীয় উপদ্রব। সারা দিন যাই হোক বিকালের পর থেকে মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এ ব্যাপারে সরকারীভাবে কোন পদক্ষেপও গ্রহণ করা হচ্ছে না।
বালিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমাদের উপজেলা পরিষদের অধীনে মশা নিধনের কোন ব্যবস্থা নেই। যদি কখনো মশা নিধনের ব্যবস্থা উপজেলা পরিষদে আসে তাহলে আমরা নিশ্চয়ই তা সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করবো। এখন আমরা নিজেরাই মশার কয়েল ও মশারী টানিয়ে বসবাস করছি।
বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল্লাহ-আল-মুরাদ বলেন, মশার প্রকারভেদ সাধারণত তিন ধরনের। এডিস মশা(ডেঙ্গু-চিকনগুনিয় জীবাণুবাহী), কিউরেক্স (মাইনোসিয়াবাহী) ও এনোফিনিস(ম্যালেরিয়াবাহী)। তবে এসব রোগ নিয়ে আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো রোগী ভর্তি হয়নি। মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরাও শংকিত। আমাদের মেডিকেল অফিসারদেরকে বলা আছে, এসব রোগ নিয়ে কোন রোগী এখানে ভর্তি হলে দ্রুত তাদের চিকিৎসা দিতে। স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরতদের মশার উৎপত্তি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতনত করতে বলা হয়েছে। এখন ডেঙ্গুর সময়। তাই মশা নিধন খুবই জরুরী। মশা নিধন করতে না পারলে এসব রোগে উপজেলার অনেকেই আক্রান্ত হতে পারে।
বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুম রেজা জানান, এই বিষয় নিয়ে আমি আগামীতে অগ্রসর হব। জনসাধারণের প্রতি অনুরোধ থাকবে আপনাদের বাড়ীর আশপাশ সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবেন। ফুলের টব, ভাঙ্গা বাসনপত্র, বোতলসহ পরিত্যক্ত আসবারপত্রের মধ্যে পঁচা পানি জমে থাকলে তা অপসারণ করবেন। শুধু অন্যের উপর দায় চাপিয়ে না দিয়ে আমরা নিজেরাই নিজেদের বাড়ীর চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবো। সরকারীভাবে মশা নিধনের কোন ব্যবস্থা আসলে অবশ্যই আমরা সে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।