॥স্টাফ রিপোর্টার॥ ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সায়-রিক্সায় ও মাহেন্দ্রতে অবৈধ লাগানো চোখের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এলইডি লাইটের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন।
“রাজবাড়ী শহরসহ জেলার সর্বত্র চলাচলকারী অটোরিক্সায় এলইডি লাইটের ব্যবহার বন্ধে ডিসি-এসপি’র হস্তক্ষেপ কামনা” শিরোনমে গত ১৯শে সেপ্টেম্বর দৈনিক মাতৃকণ্ঠে একটি সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি জেলা প্রশাসক মোঃ শওকত আলীর দৃষ্টিগোচর হয়। এ প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে গতকাল ২৪শে সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজবাড়ী শহরের পৌর মার্কেট এলাকায় জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ্ মোঃ সজীবের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়।
প্রায় দেড় ঘন্টাব্যাপী পরিচালিত অভিযানে ২শতাধিক ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা ও রিক্সা-ভ্যান, মোটর সাইকেল এবং মাহেন্দ্রসহ বিভিন্ন যানবাহন থেকে এলইডি লাইট খুলে ফেলতে চালকদের বাধ্য করাসহ অনেক লাইট ভেঙ্গে ফেলা হয়। ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যদের একটি দল অভিযানে অংশগ্রহণ করে। এ সময় এলইডি লাইট ব্যবহারকারী যানবাহনের চালকরা ভবিষ্যতে এলইডি লাইট ব্যবহার করবেন না বলে মৌখিক অঙ্গীকার করেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ্ মোঃ সজীব জানান, অননুমোদিত এসব ক্ষতিকর এলইডি লাইট খুলোর জন্য অভিযানের পাশাপাশি আজকে চালকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়। আগামীতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চলাকালে বিপুল সংখ্যক মানুষ এ অভিযানকে স্বাগত জানানোসহ অটোরিক্সা ও রিক্সাসহ অন্যান্য যানবাহনকে এলইডি লাইট মুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রাখার দাবী জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, রাজবাড়ী শহরসহ জেলার সর্বত্র চলাচলকারী ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা, রিক্সা ও ভ্যানসহ নসিমন, করিমন, এমনকি মোটর সাইকেল গুলোতেও অবৈধভাবে যত্রতত্র ব্যবহার করা হচ্ছে অননুমোদি এলইডি লাইট। শুধু হেডলাইট হিসেবেই নয়, ঐ সকল যানবাহনের বডি’র বিভিন্ন স্থানেও ইচ্ছামতো ব্যবহার করা হচ্ছে স্বল্প মূল্যের ও সহজপ্রাপ্য এই এলইডি লাইট। এর আলো চোখের মারাত্মক ক্ষতির পাশাপাশি রাতে দুর্ঘটনার জন্যও অনেকাংশে দায়ী। কারণ এই এলইডি’র তীব্র আলো চোখের উপর পড়লে অন্য যানবাহনের চালক চোখ এবং পথচারী সাময়িকভাবে চোখে ঝাপসা দেখে।