॥গোয়ালন্দ প্রতিনিধি॥ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গত ৬ই নভেম্বর বিকালে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় দৈনিক প্রথম আলো’র ২০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, প্রথম থেকেই প্রথথম আলো নিরপেক্ষভাবে সংবাদ পরিবেশন করছে। এখনও তার সেই অবস্থান ধরে রেখেছে। কাজ দিয়েই প্রমাণ করেছে, প্রথম আলো সেরা।
গোয়ালন্দ বাজারের প্রধান সড়ক সংলগ্ন বেবি ফার্মেসীর ৩য় তলায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রথম আলোর গোয়ালন্দ উপজেলা প্রতিনিধি এম রাশেদুল হক রায়হান। শপথবাক্য পাঠ করান প্রথম আলো বন্ধুসভার উপদেষ্টা নির্মল কুমার চক্রবর্তী।
‘আমার স্বামী আজ সাত বছর ধরে ব্রেইন স্ট্রোক করে ঘরে পড়ে আছে। তিন ছেলে মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন পার করছি। সেখানে প্রথশ আলোর মতো পত্রিকা আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। এজন্য আমি চির কৃতজ্ঞ। প্রথম আলো এগিয়ে না আসলে হয়তো আরো অনেক কষ্ট করতে হতো। আমি আল্লাহর কাছে কামনা করি, প্রথম আলো যেন মানুষের মাঝে হাজার বছর বেঁচে থাকে। এভাবে সবার পাশে এগিয়ে আসতে পারে।’ কথাগুলো বলছিলেন এ বছর অদম্য মেধাবী হিসেবে নির্বাচিত মীর স¤্রাটের মা আনোয়ারা বেগম। অনুষ্ঠানের সংবাদ শুনে তিনিও সন্তানের সাথে হাজির হন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ঢাকা অঞ্চলের অবসরপ্রাপ্ত পরিদর্শক শিক্ষানুরাগী সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রথম আলো শুধু একটি পত্রিকা নয়, সামাজিক প্রতিষ্ঠান। তারা ইচ্ছে করলে সামাজিক কাজ নাও করতে পারতো। এজন্য মনে হয় প্রথম আলোর কাছে প্রত্যাশার চেয়ে প্রাপ্তি কোন অংশে কম নই। তারপরও প্রথম আলোর কাছে প্রত্যাশা স্থানীয় সংবাদের প্রতি আরো গুরুত্ব দিতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবায়েত হায়াত শিপলু বলেন, প্রথম আলো বন্ধুসভা সার েেদশে নানা ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। আমার সৌভাগ্য হয়েছে তাদের সেসব অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার। আমি মনে করি প্রথম আলো তার নিরপেক্ষতার জায়গা এখনো ঠিক রেখেছে। প্রথম আলো সবসময় ভালো কাজের সাথে আছে বলেই তার পাঠকও ভালো। তাই আমি মনে করি ভালো কাজের সাথে আপনারাও থাকবেন এবং আলোকিত করে তুলবেন।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক পরিচালক মোঃ জালাল উদ্দিন বলেন, সব সময় প্রথম আলো ভালো কাজের সঙ্গে ছিল। কৃতজ্ঞ চিত্রে আমি প্রথম আলোর সম্পাদকসহ সাংবাদিকবৃন্দকে স্মরণ করতে চাই। প্রথম আলো তার গুণগত কাজ দিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছে তারা দেশ সেরা, সবচেয়ে বেশি প্রচারিত এবং মানুষের আস্থার পত্রিকা।
তরুণ শিল্পপতি এবং বন্ধুসভার উপদেষ্টা রুহুল আমিন বলেন, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান কখনই অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। সমাজের যে কোন বিপদে তিনি কাজ করে চলেছেন। তার সততা ও মেধার কারণেই আজ প্রথম আলো দেশ সেরা। সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতার কারণে পাঠকের কাছে এত জনপ্রিয়। প্রথম আলো সমৃদ্ধি বয়ে আনুক এটাই প্রত্যাশা করি।
বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক নাসরিন আক্তার ইতি ও অনুষ্ঠান সম্পাদক ইমদাদুল হক পলাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কবি শামসুর রাহমানের স্বাধীনতা কবিতা পাঠ করেন বন্ধুসভার উপদেষ্টা ও সরকারী কামরুল ইসলাম কলেজের সহকারী অধ্যাপক আউয়াল আনোয়ার। অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য রাখেন বন্ধুসভার সভাপতি রমেশ কুমার আগরওয়ালা। আমন্ত্রিত অতিথিদের হাতে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের শুভেচ্ছা পত্র ও একটি করে পত্রিকা তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ফকীর নুরুজ্জামান, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ এজাজ শফী, বন্ধুসভার উপদেষ্টা মুহাম্মদ বাবর আলী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন মোল্যা, সিদ্দিক মিয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এ সময় গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যক্তিবর্গ, পাঠক, বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মী ও সুধীজনেরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন বন্ধুসভার উপ-সাংগঠনিক সম্পাদক রাষ্ট্রপতি কর্তৃক পদকপ্রাপ্ত লোকসঙ্গীত শিল্পী তৌকির আহমেদ, অনুষ্ঠান বিষয়ক সম্পাদক ইমদাদুল হক পলাশ, সদস্য সজিব শাহরিয়ার, সুবর্না ব্যাপারী, কামরুল ইসলাম, নুরুল আনোয়ার মিলন এবং নৃত্য পরিবেশন করেন পিয়া রহমান ও অবনি আক্তার। সবশেষে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কেক কাটেন আমন্ত্রিত অতিথিবর্গ।