Site icon দৈনিক মাতৃকণ্ঠ

ভারতে করোনায় ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ২সহস্রাধিক মৃত্যু॥আক্রান্ত প্রায় ৩ লাখ

॥আন্তর্জাতিক ডেস্ক॥ ভারতে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ২হাজারেরও বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে প্রাণ হারিয়েছে এবং প্রায় ৩ লাখ মানুষ নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে।
এ মহামারি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১দিনের হিসাবে এটি হচ্ছে বিশ্বের সর্বোচ্চ আক্রান্ত। সরকারী উপাত্ত থেকে এ তথ্য জানা যায়। খবর এএফপি’র।
ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশটিতে ২৪ ঘন্টায় নতুন করে মোট ২ লাখ ৯৫ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে এবং ২ হাজার ২৩ জন প্রাণ হারিয়েছে। এনিয়ে ভারতে কোভিড-১৯ রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৮২ হাজার ৫৫৩ জনে দাঁড়ালো। গত জানুয়ারীতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন এমন সংখ্যক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হতে দেখা যায়।
গত মঙ্গলবার রাতে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, দেশের ১৩০ কোটি মানুষ এ মহামারি ভাইরাস মোকাবেলায় লড়াই করে যাচ্ছে।
মোদি বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহ আগ পর্যন্ত এ ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় সেই পরিস্থিতির অনেক অবনতি ঘটতে দেখা যাচ্ছে।’
এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেশের নাগরিকদের বর্তমানে ভারত সফর না করার পরামর্শ দিয়েছে। এদিকে ব্রিটেন করোনা সংক্রান্ত বিষয়ে করা তাদের লাল তালিকায় ভারতের নাম যুক্ত করেছে। হংকং ও নিউজিল্যান্ড এ দেশের ফ্লাইট নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
  অক্সিজেন সরবরাহে ত্রুটির কারণে ২২জন রোগীর মৃত্যু ঃ অক্সিজেন সরবরাহে লিকেজের কারণে আকস্মিকভাবে রক্তচাপ কমে যাওয়ায় ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিকে ২২জন কোভিড-১৯ রোগী ভেন্টিলেটরে মারা গিয়েছিলেন।
জেলা কালেক্টর সুরজ মান্ধারেকে উদ্ধৃত করে এনডিটিভি জানায়, ‘বর্তমান তথ্য অনুসারে, জাকির হুসাইন পৌর হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহ বাঁধাগ্রস্ত হওয়াার কারণে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।’
এদের সকলেই ভেন্টিলেটরে ছিলেন এবং তাদের অবিচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহের প্রয়োজন ছিল। জাকির হুসেন হাসপাতাল একটি কোভিড-১৯ নিবেদিত হাসপাতাল। এখানে প্রায় ১৫০ জন রোগী অক্সিজেন নির্ভর বা ভেন্টিলেটরে ছিলেন।
হাসপাতালের বাইরের ট্যাঙ্কার থেকে গ্যাস বের হয়ে দ্রুত এলাকা জুড়ে ঘন সাদা ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়।
মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ তোপে সরকার বিষয়ট খতিয়ে দেখবে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবে বলে প্রতিশ্রুটি দিয়েছেন।
অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রোগী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা রুদ্ধশ্বাস রোগীদের সহায়তা করার চেষ্টা করেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানায়, গ্যাস লিক বন্ধ করতে ঘটনাস্থলে দ্রুত ফায়ার ট্রাক ছুটে যায়।