॥স্টাফ রিপোর্টার॥ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর সড়ক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জ জেলার পাটুরিয়া নৌপথে নিরাপদ ও নির্বিঘেœ নৌযান চলাচল নিশ্চিত করতে ঈদুল ফিতরের আগে ২০টি ফেরী চালু থাকবে। কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ থাকবে না। বাড়তি নিরাপত্তার সাথে ঘাটের সকল দেখভাল প্রশাসনের নজরদারিতে থাকবে।
গতকাল ২৮শে মে দুপুরে গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহ্মুদ চৌধুরী,এমপি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন বিগত ঈদগুলোতে যাত্রী সাধারণের নির্বিঘেœ চলাচলের জন্য যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল তার ধারাবাহিকতায় এবারের ঈদেও যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে হবে। দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। ঈদে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা দেখতে চাই না, সারাদেশের মানুষকে নিয়ে আনন্দে ঈদ কাটাতে চাই।’
রাজবাড়ীর ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আলমগীর হুছাইনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর নজরদারিতে রয়েছে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাট। এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। যাত্রী বা যানবাহন পারাপারের ক্ষেত্রে অনিয়ম হলে তাদেরকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। জগৎজুড়ে নামকরা বিখ্যাত গোয়ালন্দ ঘাটের খবর দেশব্যাপী সবার জানা।
খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যাত্রীসেবা বাঁধাগ্রস্তকারী চক্রদের আইন-শৃংখলা বাহিনী কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে। তিনি বলেন, শত প্রতিকুলতার মাঝেও ভালভাবে যাত্রী পারাপার সম্ভব হবে। তাই গোয়ালন্দের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে ঘাটে নিয়োজিত সকল দপ্তরের পাশাপাশি প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এমনকি যাত্রীদেরও আন্তরিক হতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহ্মুদ চৌধুরী আরো বলেন, আমাদের দেশের সক্ষমতার কথা বিবেচনা করে সবাইকে কিছু সমস্যা মেনে নিতে হবে। এই ঘাটে স্বাভাবিক সময়ে যে ফেরী চলতো ঈদের সময় তার দ্বিগুন করা হবে। ঘাটে যাতে কোন প্রকার যানজট সৃষ্টি না হয়। মলমপার্টি, অজ্ঞান পার্টি বা টানা পার্টির তৎপরতা যাতে না থাকে সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। ঈদে বা বিশেষ উৎসবের সময় এসব দুষ্ট চক্রের তৎপরতা বেড়ে থাকে। এ সময় প্রশাসনের বাড়তি নজরদারি করতে হবে। ঈদের সময় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ১১টি বড় ফেরীসহ সর্ব মোট ২২টির মতো ফেরী চালু রাখা হবে।
এছাড়া রূপপুর পারমিনক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মালামাল এই রুট ব্যবহার করা হবে। এসব গুরুত্ব বিবেচনা করে এই ঘাট দুটি আরো আধুনিকায়ন করে গড়ে তোলার কথা তিনি জানান। যাত্রীসেবা বাড়াতে বিআইডব্লিউটিসি ৩৫টি জলযান সংগ্রহের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এছাড়া ঈদ উপলক্ষ্যে বর্তমানে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান।
মতবিনিময় সভায় এ সময় উপজেলা পরিষদ, আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাট আধুনিকায়নের পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রীর ওয়াদা পূরনের জন্য দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর দ্রুত বাস্তবায়ন চান। সেই সঙ্গে দৌলতদিয়া ফেরী ঘাট থেকে রাজবাড়ী পর্যন্ত নদী শাসনের দাবী জানান।
সভার আগে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহ্মুদ চৌধুরী পাটুরিয়া ঘাট ঘুরে মধ্যম আকারের ফেরী ‘ঢাকা’ তে দৌলতদিয়ার দুই নম্বর ঘাটে এসে পৌছেন। ঘাটে নেমে তিনি দৌলতদিয়ার ফেরী ও লঞ্চ ঘাট ঘুরে সার্বিক পরিস্থিতি দেখেন।
এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আব্দুস সামাদ, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌপরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)-এর চেয়ারম্যান অতিরিক্ত সচিব প্রণব কান্তি বিশ^াস, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর চেয়ারম্যান কমোডর এম মাহবুব-উল ইসলাম, পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি,বিপিএম-পিপিএম-সেবা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফকীর আব্দুল জব্বার, গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম নুরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবায়েত হায়াত শিপলু, জেলা পরিষদের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি নুরুজ্জামান মিয়া, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম মন্ডল প্রমূখ।
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ঈদে সার্বক্ষনিক ২০টি ফেরী চালু থাকবে—নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহ্মুদ চৌধুরী
