Site icon দৈনিক মাতৃকণ্ঠ

অশান্ত পাংশা॥সরিষা ইউপি চেয়ারম্যানের ছোট ভাই পিকুল বিশ্বাস দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত॥৩জন গ্রেফতার

॥মোক্তার হোসেন॥ রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার সরিষা ইউপির চেয়ারম্যান ও সরিষা ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমল আল বাহার বিশ্বাসের ছোট ভাই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সফিউল্লাহ বাহার ওরফে পিকুল বিশ্বাস (৪০)কে গত ১লা মে রাত ১২টার দিকে সরিষা বাজারের অদূরে চাররাস্তা মোড়ের পাশে কাঁচা রাস্তার উপর দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে।
ঘটনার সময় সে মোটর সাইকেল যোগে সরিষা বাজার থেকে সরিষা গ্রামের নিজ বাড়ীতে ফিরছিল। ফেরার পথে ওৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা মোটর সাইকেলের গতিরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করাসহ তার মাথা, মুখ ও পাঁজর লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে নিহত পিকুল বিশ্বাসের বাড়ীর দূরত্ব প্রায় আড়াই শ’ গজ।
জানা যায়, ঘটনার রাতেই গুলিবিদ্ধ গুরুতর আহত অবস্থায় পিকুল বিশ্বাসকে প্রথমে পাংশা হাসপাতালের জরুরী বিভাগে চিকিৎসা প্রদান করা হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। ভোর রাত ৪টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পিকুল বিশ্বাসের হত্যাকান্ডের ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
খবর পেয়ে রাতেই সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার(পাংশা সার্কেল) মোঃ লাবীব আব্দুল্লাহ ও পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আহসান উল্লাহ সহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যায়।
পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে সরিষা গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে ইকবাল শেখ(২৪), একই গ্রামের পান্নু মন্ডলের ছেলে মুন্নু মন্ডল(২২) ও সরিষা-আধারকোটা গ্রামের রমজান আলীর ছেলে হাবিল (৩০)কে গ্রেফতার করেছে।
এদিকে, গতকাল ২রা মে সকাল ৯টার দিকে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি, বিপিএম, পিপিএম-সেবা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনার মোটিভ উদঘাটনসহ জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশী তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে আসর নামাজের পর সরিষা-প্রেমটিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজার নামাজ শেষে সরিষা গ্রামের বাড়ীতে পিতার কবরের পাশে মরহুম পিকুল বিশ্বাসের দাফন সম্পন্ন করা হয়। জানাজার নামাজের আগে মরহুম পিকুল বিশ্বাসের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা ও নৃশংস হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়ে রাজবাড়ী-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জিল্লুল হাকিম, প্রাক্তন জাতীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল মতিন মিয়া, পাংশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম শফিকুল মোরশেদ আরুজ ও সরিষা ইউপির চেয়ারম্যান আজমল আল বাহার বিশ্বাস বক্তব্য রাখেন।
জানাযার নামাজে রাজবাড়ী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফকীর আব্দুল জব্বার, হোগলাডাঙ্গী মোহাম্মাদিয়া ইসলামীয়া মডেল কামিল মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মীর মোঃ আব্দুল বাতেন, পাংশা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তফা মাহমুদ হেনা মুন্সী, কসবামাজাইল ইউপির চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খান, মৌরাট ইউপির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ হাবিবুর রহমান, কলিমহর ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল মন্ডল, পাংশা পৌরসভার প্যানেল মেয়র ওদুদ সরদার, বাবুপাড়া ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব মন্ডল, কসবামাজাইল ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান পিল্টু জোয়াদ্দার, কালুখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক জুলফিকার আলী, পাংশা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক মোঃ মোক্তার হোসেন, পাংশা উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, নিউরো ক্লিনিকের মালিক তৌফিক হাসান লিমন, পরানপুর দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা মোঃ মোস্তফা চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কে.এম ফজলে আলী ফারুক ও আমিরুল ইসলাম ইকু, মাওলানা মোঃ লিয়াকত আলী, মাওলানা মোঃ হাবিবুর রহমান, মরহুমের পারিবারিক লোকজন, আত্মীয়-স্বজন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, গ্রামবাসী লোকজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার বহু মানুষ জানাজার নামাজে অংশগ্রহণ করেন। জানাযাতে ইমামতি করেন মাওলানা মোঃ আব্দুল খালেক।
পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আহসান উল্লাহ জানান, পিকুল বিশ্বাস হত্যাকান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩জনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার মোটিভ উদঘাটনসহ জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশী তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।