Site icon দৈনিক মাতৃকণ্ঠ

হাইকোর্ট থেকে খালাস পেয়েও বকেয়া বেতন ও পেনশনের টাকা পাচ্ছেননা মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের মিয়া

॥শিহাবুর রহমান॥ দূর্নীতি দমনের দায়েরকৃত মামলায় হাইকোর্ট থেকে সম্পূর্ণ নির্দোষভাবে খালাস পেয়েও পাওনা বকেয়া বেতন ও চাকুরী থেকে অবসরকালীন পেনশন এবং ভাতার টাকা পাচ্ছেন না রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের কালিচরনপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের মিয়া। এমনকি তার সার্ভিস বইটিও ফেরত পাননি এই মুক্তিযোদ্ধা। তার সার্ভিস বইটি হারিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে বালিয়াকান্দি উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অফিস। তিনি বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে ইসলামপুর ইউনিয়নে ব্লক সুপার ভাইজার হিসেবে চাকুরী করতেন।
আবুল খায়ের মিয়া জানান, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার বাবার নাম মাছেম আলী। ছোট কাল থেকেই আমি আবুল খায়ের মিয়া ও ফকর উদ্দিন মিয়া নামে পরিচিত হয়। স্কুল, কলেজ ও মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেটে আমার নাম আবুল খায়ের মিয়া। আর আমার বাবার পৈতিক জমিজমা ও দলিলে ফকর উদ্দিন মিয়া নাম রয়েছে। আমার বাবা ৯০ দশকে আমাদের দুই ভাইয়ের নামে দুটি বাস ক্রয় করেছিলেন। এর মধ্যে একটি বাস আমার নামে অর্থ্যাৎ ফকর উদ্দিন মিয়া নামে ক্রয় করেন। আমি বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে ব্লক সুপার ভাইজার হিসেবে চাকুরী করাকালীন ১৯৯৩ সালে জেলা দূর্নীতি দমন কর্মকর্তা রাজবাড়ী থানায় আমার নামে মামলা দায়ের করেন। মামলায় আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয় ‘সরকারী কর্মচারী হয়ে আবুল খায়ের মিয়া নিজের নাম গোপন করে দূর্নীতির মাধ্যমে বাস ক্রয় করেছেন’। এ মামলার ফলে আমাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। বিগত ১৯৯৬ সালের ৩০ মে উক্ত মামলায় আমার ৪বছরের সাজা হয়। একই বছরের জুন মাসে আমি হাইর্কোটে আপিল করে জামিন পাই। পরবর্তীতে ২০১৭সালের নভেম্বরে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় হাইকোর্ট আমাকে সম্পূর্ণ নির্দোষভাবে খালাস দেন। এর মধ্যে ২০০৬সালে আমার চাকুরীর সময়সীমাও শেষ হয়ে যায়। যার প্রেক্ষিতে আমি পূর্ণ বকেয়া বেতন, সাময়িক বরখাস্ত থেকে মুক্তি ও চাকুরীর অবসর প্রাপ্তকালীন অবসরপ্রাপ্ত পেনশন প্রাপ্তি হই। কিন্তু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে বারবার ধর্ণা দিয়েও আমার পাওনা বকেয়া বেতন ও অবসরের পেনশনের টাকা পায়নি। অপরদিকে আমার সার্ভিস বইটিও হারিয়ে ফেলেছে বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিস। আমি বারবার সার্ভিস বইটির ব্যাপারে তাদেরকে বললেও তারা উদাসীন রয়েছেন। এ ব্যাপারে বালিয়াকান্দি থানায় একটি জিডিও করেছি।
মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের মিয়া আরো বলেন, আমি ছাত্র জীবন থেকে ছাত্রলীগের সাথে জড়িত ছিলাম। বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু মিথ্যা মামলায় আমার পরিবার ও আমি চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়েও এখন পাওনা বেতন ও পেনশনের টাকার জন্য বিভিন্ন অফিসের দাঁড়ে দাঁড়ে ঘুরছি। এ ব্যাপারে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ ব্যাপারে বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, উনার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। ওই মামলায় তার ৪বছরের সাজা হয়। পরবর্তীতে তিনি হাইকোর্ট থেকে বেকসুর খালাস পান। এর মধ্যে অনেক অফিসার রদবদল হয়েছে। আমি যতটুকু জানতে পেরেছি সেটা হলো ওই সময়ে তিনি তার সার্ভিস বইটি নিয়েছিলেন। সম্ভবত তিনি সেটা হারিয়ে ফেলেছেন।