Site icon দৈনিক মাতৃকণ্ঠ

নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলীর সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত

॥স্টাফ রিপোর্টার॥ রাজবাড়ী-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী গতকাল ২রা জানুয়ারী সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছেন। রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ বঙ্গভবনের দরবার হলে তাকে শপথ শপথ বাক্য পাঠ করান।
প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী ১৯৫৪ সালের ২২শে এপ্রিল রাজবাড়ী জেলা শহরের সজ্জনকান্দায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা কাজী হেদায়েত হোসেন এবং মাতা মনাক্কা বেগম। তাঁর স্ত্রী’র নাম রেবেকা সুলতানা সাজু।
আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী রাজবাড়ী ইয়াসিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, রাজবাড়ী সরকারী কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.কম সম্মানসহ এম.কম ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ব্যবসার পাশাপাশি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি ১৯৯০ থেকে অদ্যাবধি রাজবাড়ী জেলায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
১৯৯২ সালে রাজবাড়ী-১ থেকে ৫ম জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে উপ-নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন কাজী কেরামত আলী। ১৯৯৬ সালে ৭ম জাতীয় সংসদে এবং ২০০৮ সালের ২৯শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ৯ম জাতীয় সংসদ ও ২০১৪ সালে ১০ম জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
তিনি ৫ম জাতীয় সংসদে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ৭ম জাতীয় সংসদে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, নবম জাতীয় সংসদে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও তার পূর্বে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং জাতীয় সংসদে লাইব্রেরী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে দশম জাতীয় সংসদের সরকারী প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী ১৯৯৬ থেকে রাজবাড়ী জেলার বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি, রাজবাড়ী জেলার রোটারী ক্লাবের সদস্য এবং রাজবাড়ী জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জীবন সদস্য।
ইংরেজি ভাষায় দক্ষ কাজী কেরামত আলী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হিসেবে কুয়েত সফর এবং সরকারী ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে আমেরিকা, কানাডা, চীন, জাপানসহ বিশ্বের অনেক দেশ সফর করেছেন। তিনি এক কন্যা সন্তানের জনক। তার সহধর্মিনী রেবেকা সুলতানা সাজু জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং কন্যা কানিজ ফাতেমা চৈতী আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত।
উল্লেখ্য, প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলীর পিতা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মরহুম কাজী হেদায়েত হোসেন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত থেকে তৎকালীন গোয়ালন্দ মহকুমা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হন। ১৯৭০ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি এমপি নির্বাচিত হন এবং তার পূর্বে কয়েকবার রাজবাড়ী পৌরসভার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট স্বপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নৃশংস হত্যাকান্ডের ৩দিনের মাথায় ১৮ই আগস্ট রাজবাড়ী শহরের কলেজ রোড এলাকায় এ অঞ্চলের কিংবদন্তী এ রাজনীতিবিদ কাজী হেদায়েত হোসেনকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।