fbpx
বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০, ০৩:২৯ অপরাহ্ন
Logo
সংবাদ শিরোনাম ::
পবিত্র শবে বরাতে মসজিদ, কবরস্থান ও মাজারে জনসমাগম না করতে ইফার আহ্বান কালুখালী থানা পুলিশের পক্ষ থেকে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ পাংশায় এমপি জিল্লুল হাকিম ও তার পুত্র মিতুলের উদ্যোগে খাদ্য বিতরণ রাজবাড়ী সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুরে ২শত পরিবারের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ রাজবাড়ীতে ঢাকা থেকে পালিয়ে আসা করোনায় আক্রান্ত স্ত্রীসহ পুলিশ সদস্য আইসোলেশনে॥২টি গ্রাম লকডাউন এমপি জিল্লুল হাকিমের উদ্যোগে কালুখালীর কালিকাপুর ও রতনদিয়া ইউনিয়নে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজবাড়ী জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইরাদত আলীর উদ্যোগে শহীদওহাবপুরে খাদ্য বিতরণ বালিয়াকান্দির বহরপুরে ৩শতাধিক পরিবারের মধ্যে এমপি জিল্লুল হাকিমের খাদ্য বিতরণ কালুখালী ছাত্র কল্যাণ পরিষদের ত্রাণ বিতরণ বালিয়াকান্দিতে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৪টি পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন ইউপি চেয়ারম্যান

পাংশার কশবামাজাইলে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ১জন নিহত॥৩০টি বাড়ী-দোকান ভাংচুর॥এলাকা থমথমে

  • আপডেট সময় শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২০

॥মোক্তার হোসেন/দেবাশীষ বিশ্বাস॥ রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার কশবামাজাইল ইউপিতে গতকাল ১৩ই মার্চ সকালে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কশবামাজাইল ইউপির চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খান এবং আওয়ামী লীগ নেতা জজ আলী বিশ্বাসের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষে আসাদুল বারী খান(৪৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত এবং ৩০টি বাড়ী-ঘরসহ কয়েকটি দোকানে হামলা-ভাংচুর-লুটতরাজ ও ১টি বাড়ীতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
সংঘর্ষে নিহত আসাদুল বারী খান কশবামাজাইল ইউপির চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খানের আত্মীয়(মামা) বলে জানা গেছে। তার বাড়ী একই ইউপির সুবর্ণকোলা মাঠপাড়া গ্রামে। তার পিতার নাম মৃত খোরশেদ আলী খান। আসাদুল বারী খান ব্র্যাকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং খোকসা এলাকায় প্রাইভেট টিউশনি করতো।
এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমবেশী ২০জন আহত হয়েছে। আহতদের ফরিদপুর, শৈলকুপা, খোকসা ও পাংশা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে প্রথমে কশবামাজাইল ক্যাম্পের পুলিশ, পাংশা মডেল থানা এবং পরবর্তীতে রাজবাড়ী পুলিশ লাইন্স থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিত শান্ত করে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খান এবং আওয়ামী লীগ নেতা জজ আলী বিশ্বাসের লোকজনের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
চেয়ারম্যান কামরুজ্জামানের গ্রুপে জেলা পরিষদ সদস্য মোঃ হাবিব বিশ্বাস এবং জজ আলী বিশ্বাসের গ্রুপে কশবামাজাইল ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান পিল্টু ও সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা শামসুদ্দিন মন্ডল ওরফে শাম মন্ডল রয়েছে।
স্থানীয়া জানায়, গত ১২ই মার্চ সকাল ১০টার দিকে সুবর্নখোলা মাঠে পিয়াজের ক্ষেতে জজ আলীর সমর্থক পান্না(২৫) ও কামরুজ্জামানের সমর্থক সোহরাব(২৫) এর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনার মধ্যে দিয়ে সংঘর্ষের সুত্রপাত হয়। ওইদিন জজ আলী গ্রুপের লোকজন খলিল উদ্দিন খান, নজরুলের স্ত্রী ও পুত্রবধুকে মারপিট এবং হাফিজুর রহমান হাফিজ(২৫)কে কুপিয়ে জখম করে। পরে তাকে পাংশা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং এ ব্যাপারে হাফিজের পক্ষ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
ওই ঘটনায় সকাল থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে কশবামাজাইল ক্যাম্পের এবং পাংশা মডেল থানার পুলিশ রাতে টহল দেয়। পাশাপাশি দুই পক্ষ সংঘর্ষের প্রস্তুতি নেয়।
জানা যায়, ঘটনার পর থেকে গত ১২ই মার্চ রাতে কশবামাজাইল ইউপির চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খানের বাড়ীতে ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খান, তার ভাই আনোয়ার হোসেন, বিএনপি নেতা মিরাজ খান, বিশু খা, আকবর জোয়ার্দ্দার ও আলা খানসহ তাদের অনুসারী লোকজন বৈঠক করেন এবং হামলার প্রস্তুতি নেন।
গতকাল শুক্রবার ভোরে চেয়ারম্যান কামরুজ্জামানের সমর্থক জাহিদ খানের বাড়ীতে প্রতিপক্ষ হামলা করলে চেয়ারম্যান কামরুজ্জামানের দুই শতাধিক লোকজন সুবর্ণকোলা গ্রামে কশবামাজাইল ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান পিল্টু জোয়ার্দ্দার, রাজু মোল্লা, মন্টু মোল্লা, আইয়ুব মোল্লা, হিরন, জলিল খা, ইউনুস মোল্লা, ইউসুফ মোল্লা, জিল্লু মোল্লা, শমেশ জোয়ার্দ্দার, তুরাপ জোয়ার্দ্দার, বাচ্চু জোয়ার্দ্দার ও মতিয়ার জোয়ার্দ্দার, নটাভাঙ্গা গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা বাঁশি খান, সবুর খান, লিয়াকত মাস্টার, দুলাল খান ও আশরাফ খানসহ অন্তত ২০টি বাড়ী ঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর, লুটতরাজ, নটাভাঙ্গা মোড়স্থ ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের অফিস ঘর, ফারুক, খায়রুল ও জিহাদের দোকান ভাংচুর ও লুটতরাজ এবং কশবামাজাইল ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শামসুদ্দিন মন্ডলের নটাভাঙ্গা গ্রামের বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ করে।
এ সময় এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দু’পক্ষের লোকজন। সংঘর্ষ চলাকালে সুবর্নখোলা গ্রামে নিপেন মাঝির বাড়ীর সামনে প্রতিপক্ষের লোকজন চেয়ারম্যান কামরুজ্জামানের আত্মীয়(মামা) আসাদুল বারী খানের উপর হামলা চালিয়ে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পায়ে ও বুকে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ ভ্যানযোগে গুবদিয়া চরে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পাংশা থানার পুলিশ সেখানে গিয়ে লাশ উদ্ধার ও ৪জনকে আটক করে।
কশবামাজাইল ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান পিল্টু জোয়ার্দ্দার জানান, কশবামাজাইল ইউপির চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খান, তার ভাই আনোয়ার হোসেন, মিরাজ খান, বিশু খা, আকবর জোয়ার্দ্দার ও আলা খানসহ তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী গতকাল শুক্রবার ভোর থেকে উস্কানি ছাড়াই এলাকায় তান্ডব চালায়।
এ ব্যাপারে কশবামাজাইল ইউপির চেয়ারম্যান মোঃ কামরুজ্জামান খান বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা জজ আলী বিশ্বাসের লোকজন শুক্রবার ভোরে আমাদের উপর হামলা করবে মোবাইলে এমন খবর পেয়ে আমি ফজর নামাজের পূর্বে ৫টা ১৫মিনিটে এবং ৫টা ২০ মিনিটে দুইবার জজ আলী বিশ্বাসকে ফোন করে বলে ছিলাম গোলযোগ না করতে। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন “তোমার লোক যদি হামলা না করে তাহলে আমার লোক হামলা করবে না”। কিন্তু আমার লোকজন প্রথমে হামলা না করলেও তার লোকজন হামলা শুরু করে। তখন আমি মোবাইলে কশবামাজাইল ক্যাম্পের পুলিশ, পাংশা মডেল থানায় ঘটনা জানালে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে।
তিনি আরো বলেন, প্রতিপক্ষ আমার সমর্থক গনি জোয়ার্দ্দার, এরশাদ জোয়ার্দ্দার, তারেক জোয়ার্দ্দার, আনোয়ার হোসেন, বিশু খা, সোহরাব বিশ্বাস এবং খলিলুর রহমানসহ আরো অনেকের বাড়ী-ঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। আমার পক্ষের আহতদের মধ্যে ৫জন বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তিনি বলে নিহত আসাদুল বারীর লাশ গুবদিয়ার চরে গুম করার চেষ্টাকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করাসহ ৪জনকে সেখানে থেকে আটক করেছে।
নিহত আসাদুল বারী খানের ভাতিজা সাদ্দাম খান বলেন, স্থানীয় জজ আলী বিশ্বাসের সাথে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে জজ আলী বিশ্বাসের লোকজন তাকে হত্যা করেছে।
তবে এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে আওয়ামী লীগ নেতা জজ আলী বিশ্বাসের মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে গোলযোগের খবর পেয়ে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(প্রশাসন ও অপরাধ) মোঃ সালাহ উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ফজলুল করিম, পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ও পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আহসান উল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পুলিশ সুবর্ণকোলা গ্রামের গুবদিয়ার চর এলাকা থেকে নিহত আসাদুল বারী খানের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজবাড়ী মর্গে প্রেরণ করেছে। পুলিশ জানায়, হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকা সন্দেহে ৫জনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে।
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, আসাদুল বারী খানের হত্যা বিষয়টি জানার পর আমি সেখানে প্রায় দেড়শত পুলিশ মোতায়েন করেছি। শোনা যাচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতা জজ আলী বিশ্বাস এবং কসবামাজাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খান দুই গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করেনি। মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
error: আপনি নিউজ চুরি করছেন, চুরি করতে পারবেন না !!!!!!