শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ০৪:২০ অপরাহ্ন
Logo
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রী দুবাই সফরে ৩টি চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা —পররাষ্ট্র মন্ত্রী রাজবাড়ীতে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‌্যালী প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় রাজবাড়ী সদরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ব্রিফিং বাংলাদেশী রসনায় তৃপ্ত সিঙ্গাপুরের অধিবাসী ও বিদেশী কুটনীতিকগণ পাংশা উপজেলা স্কাউটস্’র ৭ম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত ফরিদপুর পৌর এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান পাংশার ধুলিয়াটে বিরোধপূর্ণ জমি থেকে জোরপূর্বক ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ পাংশায় সৈয়দ বায়তুল্লাহ কিন্ডার গার্টেনে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা প্রদান বালিয়াকান্দিতে ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যা মামলায় রাজবাড়ীর ইফতি মোশারফসহ ২৫জনকে অভিযুক্ত চার্জশীট দাখিল

গোয়ালন্দে মহাসড়কের ৯কিলোমিটার জুড়ে খানাখন্দ ও ভাঙ্গাচোরায় দুর্ভোগ !

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০১৯

॥এম.এইচ আক্কাছ॥ চুক্তির মেয়াদ থাকার অজুহাতে ঢাকা-খুলনা জাতীয় মহাসড়কের গোয়ালন্দ উপজেলাধীন ৯কিলোমিটার অংশের সংস্কার কাজ বন্ধ রেখেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
এতে মহাসড়কের খানাখন্দ ও ভাঙ্গাচোরার উপর দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের চালক-শ্রমিক ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কমে গেছে যানবাহন চলাচলের গতি। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
রাজবাড়ী সড়ক বিভাগ বলছে, এই মহাসড়কের সংস্কার কাজ চলমান আছে। এই কাজ সম্পন্ন করতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের হাতে এখনও অনেক সময় আছে। তবে মহাসড়কের খারাপ অবস্থা দূর করার জন্য জরুরী ভিত্তিতে কাজ করা হবে।
জানা গেছে, মেসার্স মীর আক্তার এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা-খুলনা জাতীয় মহাসড়কের ফরিদপুর জেলার শেষ প্রান্ত হতে রাজবাড়ী সদর উপজেলার ১০ কিঃ মিঃ ও গোয়ালন্দ উপজেলার ৯ কিঃ মিঃ মিলে মোট ১৯ কিঃ মিঃ এলাকার সংস্কার কাজ মাস খানেক আগে শুরু করে। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি রাজবাড়ী সদরের অংশটি অর্থাৎ বসন্তপুর থেকে মকবুলের দোকান পর্যন্ত কাজ করার পর গোয়ালন্দ উপজেলার অংশ ফেলে রেখেছে।
অভিযোগ উঠেছে, কাজ সম্পন্ন করতে হাতে সময় থাকার অজুহাতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি কাজ ফেলে রেখেছে।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী(চঃ দাঃ) কে.বি.এম সাদ্দাম হোসেন বলেন, ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালামাল না থাকায় মহাসড়কের সংস্কার কাজ বন্ধ রয়েছে। তারা মালামাল সংগ্রহ করতে পারলে আবার কাজ শুরু করবে। তাছাড়া জরুরী ভিত্তিতে ইতিমধ্যে ভাঙ্গাচোরা জায়গায় কাজ করা হচ্ছে।
সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, সংস্কার কাজ ফেলে রাখায় গোয়ালন্দ উপজেলার মকবুলের দোকান হতে দৌলতদিয়া ফেরী ঘাট পর্যন্ত ৯ কিঃ মিঃ মহাসড়কে বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে অবস্থা আরো বেগতিক হয়ে পড়েছে। মহাসড়কের জমিদার ব্রীজ হতে গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের সামনে স্থাপিত পণ্যবাহী যানবাহনের ওজন স্কেল পর্যন্ত অত্যধিক খারাপ হয়ে পড়েছে। ওজন স্কেলের কারণে অধিকাংশ সময় সড়কের অর্ধেক অংশ জুড়ে ট্রাকের সিরিয়াল থাকায় ভাঙ্গাচোরা অর্ধেক সড়কে চালকদের আরো বেশী বিপাকে পড়তে হয়। এর পাশাপাশি গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ড, পৌর জামতলা বাজারসহ দৌলতদিয়ার বাংলাদেশ হ্যাচারী হতে দৌলতদিয়া ট্রাক টার্মিনাল পর্র্যন্ত প্রায় ৩ কিঃ মিঃ অংশের অবস্থা অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ অংশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির সময় বড় বড় গর্তে পানি জমে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যানবাহনের চালক-শ্রমিক ও যাত্রীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
জাতীয় মহাসড়কের পাশের দোকানী ও পথচারীরা বলেন, গর্তের মধ্যে চলন্ত যানবাহনের চাকা পড়লে নোংরা কাদাপানি ছিটে দোকানের মালামাল ও কাপড়চোপড় নষ্ট হয়ে যায়। রিক্সা-ভ্যানে যাতায়াতকারীদেরও একই অবস্থা হয়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, মহাসড়কের ভাঙ্গাচোরার কারণে প্রায়ই যানবাহন উল্টে যায়। গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে বিপরীত দিকের যানবাহনের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এতে অনেকে আহত হয়। কিছুদিন পর পর সওজ’র লোকজন এসে রাস্তা মেরামত করে যায়। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই আবারও নষ্ট হয়ে যায়। তারা আসলে মেরামত করে না, লোক দেখায়।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কে.বি.এম সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমি রাস্তার খারাপ অবস্থা দেখেছি। জরুরীভাবে মেরামত কাজ করা হবে। ফরিদপুরের মেসার্স মীর আক্তার এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ২৪ কোটি টাকার কাজটি বাস্তবায়ন করছে। আগামী ৪ঠা মার্চ-২০২০ পর্যন্ত সময় থাকলেও তার অনেক আগেই রাস্তার অবশিষ্ট কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করছি। মহাসড়কের বসন্তপুর থেকে দৌলতদিয়া টার্মিনাল হয়ে বাইপাস সড়কসহ মোট ১৯ কিঃ মিঃ এলাকায় ৫০ মিঃ মিঃ পুরুত্বের কার্পেটিং কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। ইতিমধ্যে মকবুলের দোকান পর্যন্ত প্রায় ১০ কিঃ মিঃ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকী ৯কিঃ মিঃ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা গেলে দুর্ভোগ থাকবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
error: আপনি নিউজ চুরি করছেন, চুরি করতে পারবেন না !!!!!!