বুধবার, ০৩ জুন ২০২০, ১০:৩৫ অপরাহ্ন
Logo
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোনে ভারতের মোদীর ঈদ শুভেচ্ছা পবিত্র ঈদুল ফিতরে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা ও ঈদ উপহার রাজবাড়ীতে দুস্থদের মধ্যে অর্থ-শাড়ী বিতরণ করলেন সংসদ সদস্য সালমা চৌধুরী রুমা রাজবাড়ী জেলার প্রায় সকল মসজিদে ও পারিবারিকভাবে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রে ঘরোয়া পরিবেশে ঈদ-উল ফিতর উদযাপন করলো মুসলিমরা ফরিদপুরে সামাজিক দূরত্ব মেনে মসজিদে মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে করোনার উপসর্গ নিয়ে আরো ১জনের মৃত্যু বালিয়াকান্দির সাধুখালীতে লকডাউনে থাকা ১৯টি পরিবারকে প্রশাসনের খাদ্য সহায়তা করোনা মোকাবেলায় কৃষি বাজারের করণীয় পাংশায় করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যবসায়ীদের পাশে এমপি পুত্র মিতুল

পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোত ও ভাঙনের কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-রুটের অচলাবস্থা

  • আপডেট সময় শনিবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৯

॥এম.এইচ আক্কাছ॥ পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোত ও ভাঙ্গনের কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-রুটে যানবাহন পারাপারে প্রায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
ভাঙনের কারণে ইতিমধ্যে দৌলতদিয়ার ২টি ফেরী ঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। বাকী ৪টি ফেরী ঘাট দিয়ে কোন রকমে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। পাটুরিয়া ঘাট ছেড়ে আসা ফেরীগুলোকে দৌলতদিয়া ঘাটে ভিড়তে চরম বেগ পেতে হচ্ছে। ঝুঁকি এড়াতে গতকাল ৪ঠা অক্টোবর দুপুর ১টা থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ।
জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম দৌলতদিয়া ঘাট পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে লঞ্চ চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত দেন। লঞ্চ চলাচল বন্ধ হওয়ায় লঞ্চের যাত্রীদের ফেরীতে নদী পার হতে বলা হচ্ছে। এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, তীব্র স্রোতে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় লঞ্চ চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। স্রোতের তীব্রতা কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় লঞ্চ চলাচল শুরু হবে।
গত বৃহস্পতিবার দৌলতদিয়ার ১ ও ২ নম্বর ফেরী ঘাটের মাঝে থাকা সিদ্দিক ব্যাপারীর পাড়ার বিশাল অংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে অন্তত ২০০টি পরিবার তাদের বসতভিটা হারানোসহ বন্ধ হয়ে গেছে ওই ২টি ফেরী ঘাট।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নদীর বর্তমান অবস্থায় দৌলতদিয়ার ৬টি ফেরী ঘাটের মধ্যে ভাঙ্গনের কারণে ১ ও ২ নম্বর ফেরী ঘাটে ফেরী লোড-আনলোড করা কোনমতেই সম্ভব নয়। ৪ নম্বর ফেরী ঘাটটি সচল থাকলেও তীব্র স্রোতের কারণে সেখানেও ফেরী ভিড়তে পারছে না। বাকী ৩, ৫ ও ৬ নম্বর ঘাট সচল রয়েছে। এ সকল ঘাটেও ফেরী ভিড়তে অনেক বেগ পেতে হচ্ছে এবং অনেক সময় লাগছে। এছাড়া এই নৌরুটে ১৬টি ফেরী থাকলেও বর্তমানে ১৩টি ফেরী সচল রয়েছে। সচল থাকা ফেরীগুলোর মধ্যে ৫টি রো রো (বড়) ফেরী সার্বক্ষণিক চলাচল করতে পারছে। বাকী ৮টি ফেরী স্রোতের বিপরীতে ঠিকমতো চলতে পারছে না। সেগুলো মাঝে-মধ্যে দু’একটি করে ট্রিপ দিচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে দৌলতদিয়ার ফেরী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে একের পর এক বড় বড় মাটির চাপ নদীতে ভেঙে পড়ছে নদীতে। শত শত মানুষ এই নদী ভাঙ্গন দেখছে। এ সময় অনেকেই জানান, পদ্মার পানি বৃদ্ধির সাথে এই এলাকার ভাঙন এতই তীব্র হয়েছে যা বলার মতো নয়। মুহূর্তের মধ্যে বসতবাড়ী নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড যে বালুর বস্তা ফেলছে তা তেমন কোন কাজেই আসছে না। আগের ফেলা বালু ভর্তি জিও ব্যাগ আগেই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে দৌলতদিয়ার সবগুলো ফেরী ঘাটই নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, সেখান থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যাত্রীবাহী কয়েকশত বাস সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে আছে। এসব বাসের চালকরা জানান, দৌলতদিয়া ঘাটে দীর্ঘ সময় বসে থাকার পর ফেরী পাওয়া যাচ্ছে। রাতে আসা নৈশকোচ দিনের অনেকটা সময় পার হওয়ার পর ফেরীর নাগাল পাচ্ছে।
গোয়ালন্দ ঘাট থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে গোয়ালন্দ মোড় থেকে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে পণ্যবাহী ট্রাক ও কভার্ডভ্যান আটকে রেখেছে হাইওয়ে পুলিশ। আটকে রাখা যানবাহনের চালক ও শ্রমিকরা জানান, খাবার হোটেল ও টয়লেট সমস্যার কারণে তাদেরকে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় কর্মরত টিএসআই রেজাউল করিম জানান, ঘাটের অবস্থা খারাপ হওয়ায় পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে বিকল্প হিসেবে বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কিন্তু ট্রাক চালকরা ওই রুট ব্যবহার করতে রাজি না। তারা তেল খরচ বাঁচানোর জন্য এখানেই বসে থাকছে।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ রনি জানান, প্রবল স্রোতই নদী ভাঙ্গনের মূল কারণ। আমাদের যে ফেরীগুলো সচল আছে সেগুলো দিয়ে স্বাভাবিকভাবে যানবাহন পারাপার করা সম্ভব নয়। কারণ তীব্র স্রোত ছোট ফেরীগুলোকে টেনে কয়েক মাইল দূরে নিয়ে যাচ্ছে। বড় ফেরী ঘাটে আসতে সময় লাগছে ২ ঘন্টারও বেশী। তারপরও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম শেখ জানান, হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কয়েকটি পয়েন্টে নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা দৌলতদিয়া ফেরী ঘাটের। আমরা জরুরী ভিত্তিতে বালুর বস্তা ফেলার কাজ করে যাচ্ছি। ঘাট সচল রাখতে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
error: আপনি নিউজ চুরি করছেন, চুরি করতে পারবেন না !!!!!!