॥এম.এইচ আক্কাছ॥ পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতে পারাপার ব্যাহত হওয়াসহ কাঁঠালবাড়ী ফেরী ঘাট সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় অতিরিক্ত চাপে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে কয়েকশত যানবাহন আটকা পড়েছে।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয় ও অন্যান্য সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ করে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটের ফেরীগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না। এমনিতেই এই রুটে ফেরীর স্বল্পতা রয়েছে। তার উপরে তীব্র স্রোতের বিপরীতে নদী পারাপারে দ্বিগুণ সময় লাগায় উভয় প্রান্তে যানবাহন আটকে থাকছে। এছাড়া তীব্র স্রোতের কারণে গতকাল ২৯শে ডিসেম্বর ভোর রাত থেকে মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়ী ঘাট কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দেয়ায় দৌলতদিয়া ঘাটে যানবাহনের মাত্রাতিরিক্ত চাপ পড়ে। এর পাশাপাশি তীব্র স্রোতের বিপরীতে চলতে না পারায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটের খানজাহান আলী, চন্দ্রমল্লিকা ও সন্ধা-মালতি নামের ৩টি বন্ধ রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় মাত্র ১৩টি ফেরী দিয়ে এই রুটের যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। এর ফলে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে মহাসড়কের কয়েক কিলোমিটার জুড়ে শতশত যানবাহন দীর্ঘ সিরিয়ালে আটকা পড়েছে।
গতকাল ২৯শে সেপ্টেম্বর বিকালে সরেজমিনে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে কেকেএস সেফ হোম পর্যন্তÍ প্রায় কিলোমিটার জুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে। ঘাট এলাকার আড়াই কিলোমিটার ফোর লেন সড়কের বাম পাশে অন্তত ৩ শতাধিক যানবাহন আটকে রয়েছে। যানবাহনগুলোর চালক-শ্রমিক ও যাত্রীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় সিরিয়ালে আটকা থাকায় তাদেরকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সাকুরা পরিবহনের একটি বাসের সুপারভাইজার রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা ১ ঘন্টার উপরে দীর্ঘ সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে আছি। আমাদের মতো আরো শতশত গাড়ী সিরিয়ালে আটকে আছে। তবে অনেক এসি-ননএসি গাড়ী দালালদের সহযোগিতায় পুলিশকে ম্যানেজ করে আমাদের পাশ দিয়ে দ্রুত বেগে ঘাটের দিকে চলে যাচ্ছে।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে ঘাটে কর্মরত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আবুল হোসেন বলেন, চালকদের অভিযোগ সঠিক নয়। মাঝখান থেকে কখনো কোন চালক সিরিয়াল ভেঙ্গে সামনে চলে আসলেও পুলিশ বক্সের সামনে তাদেরকে আটকে মামলা দিয়ে আবার পিছনে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ রনি জানান, বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে ১৩টি ফেরী চলছে। তীব্র স্রোতের কারণে ফেরীগুলোর নদী পারাপারে অতিরিক্ত সময় লাগছে। একই কারণে ৩টি ফেরীকে বসিয়ে রাখা হয়েছে। এর ফলে ঘাট এলাকায় যানবাহনের সিরিয়ালের সৃষ্টি হয়েছে। এর সাথে বন্ধ থাকা শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটের বাড়তি যানাবহন আসায় সমস্যা আরো বেশী হচ্ছে। তবে মানুষের দুর্ভোগ কমাতে যাত্রীবাহী যানবাহনগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করা হচ্ছে।
দৌলতদিয়া ঘাটে কয়েকশত যানবাহন আটকা পড়েছে
