॥হেলাল মাহমুদ॥ রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মোঃ শওকত আলী বলেছেন, আসন্ন দুর্গাপূজায় জেলা প্রশাসন সংখ্যালঘুদের পাশে থাকবে। গতকাল ৩০শে সেপ্টেম্বর সকালে কালেক্টরেটের সম্মেলন কক্ষে সনাতন ধর্মালম্বীদের সাথে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি সভায় তিনি এ কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসবের সময়ে মন্ত্রী পরিষদে ছোট আকারের থাকবে। সে সময় দেশী-বিদেশী কুচক্রী মহল কর্তৃক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টসহ দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা হতে পারে। তাই সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরো বলেন, এ বছর রাজবাড়ীর ৪২১টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এ সকল পূজামন্ডপের নিরাপত্তায় আনসার, গ্রাম পুলিশ, থানা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসনসহ জেলা প্রশাসন কাজ করবে। নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি নিজ নিজ উদ্যোগে প্রতিটি মন্দিরে পরিচয়পত্রধারী স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন করতে হবে। এমন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করতে হবে যারা সমাজের ভালো ব্যক্তি। কোন অপচেষ্টা বা অপতৎপরতা সহ্য করা হবে না। পূজায় কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাকে সরাসরি জেলে পাঠানো হবে। সব মিলিয়ে এ বছরের দুর্গাপূজা প্রশাসনেনর জন্য চ্যালেঞ্জিং।
দুর্গাপূজায় বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার ও ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলীদ্বয় বলেন, এ বছর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। কোন মন্দিরে লাইন না থাকলে একদিনের মধ্যেই অস্থায়ী সংযোগ প্রদান করা হবে। কেউ অবৈধ বিদ্যুৎ নিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে জেলার ৫ উপজেলার পূজা উৎযাপন কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকরা রাস্তার বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
প্রস্তুতি সভায় রাজবাড়ী সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডঃ এম.এ খালেক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সদর সার্কেল) মোঃ রেজাউল হক,পিপিএম, গোয়ালনন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবু নাসার উদ্দিন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাঈদুজ্জামান খান, পাংশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ তারিক কামাল, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অশোক কুমার বাগচী, সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ্ত চক্রবর্তী কান্ত ও সাংগঠনিক সম্পাদক স্বপন কুমার দাসসহ বিভিন্ন উপজেলার পূজা উদযাপন পরিষদের নেনতৃবৃনন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, আগামী ১৫ই অক্টোবর থেকে বাঙালী হিন্দুদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হতে যাচ্ছে। এবার রাজবাড়ী জেলায় মোট ৪২১টি মন্ডপে এই পূজার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজবাড়ী সদরে ১০১টি, বালিয়াকান্দি উপজেলাতে ১৪৩টি, পাংশা উপজেলাতে ৯৫টি, কালুখালী উপজেলাতে ৫৫টি ও গোয়ালন্দ উপজেলাতে ২৩টি পূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি পূজা মন্ডপকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অর্ধ মেট্রিক টন(৫শত কেজি) করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।