॥দেবাশীষ বিশ্বাস॥ রাজবাড়ীর সদর উপজেলার খানগঞ্জ গ্রামে গতকাল ৩০শে জুন ভোর রাতে বাড়ীতে চুরি দেখতে পেয়ে চিৎকার করায় মারপিটে আহত বৃদ্ধা আফেদা বেগম ও তার ছেলে হবি দেওয়ানকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার সময় বৃদ্ধা আফেদা বেগমের মাথার চুলও কেটে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় রাজবাড়ী সদর থানার পুলিশ পার্শ্ববর্তী হরিহরপুর গ্রামের নান্নু খোন্দকারের ছেলে সাইদুল খোন্দকার মুন্নাকে গ্রেফতার করেছে।
চিকিৎসাধীন আফেদা বেগম ও হবি দেওয়ান জানান, গত ২৯শে জুন দিনগত ভোর ৩টার দিকে মুন্নাসহ ৩/৪জন চুরি করার জন্য তাদের ঘরে প্রবেশ করে। তারা দেখতে পেয়ে চিৎকার করে উঠলে তাদেরকে মারপিট করাসহ আফেদা বেগমের মাথার চুল কেটে দেয়া হয়। তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে আসার সময়ও মুন্না ও তার সহযোগীরা পথে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য সানোয়ার হোসেনের হস্তক্ষেপে ধাওয়াপাড়া ঘাট হয়ে তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
ইউপি সদস্য সানোয়ার হোসেন বলেন, ফজরের নামাজের সময় হবি দেওয়ান মোবাইলে চুরির ব্যাপারে জানালে তিনি ইউনিয়ন পরিষদে বসে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেন। পরে হবির প্রতিবেশী বাবলু বিশ্বাস মোবাইলে মারপিটের বিষয়টি জানালে তিনি আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেন। এ সময় বাবলু বলেন, সাইদুল খোন্দকার মুন্নারা রাস্তা অবরোধ করে রেখেছে। তখন ধাওয়াপাড়া ঘাট দিয়ে তাদেরকে সদর হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। পরে তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত সেবিকা সুলতানা জানান, চুল কাটা অবস্থায় বৃদ্ধা আফেদা বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
রাজবাড়ী সদর থানার পরিদর্শক(তদন্ত) মোঃ তায়াবীর জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাইদুল খোন্দকার মুন্না ও নাসরিন নামের দুই জনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সাথে সাইদুল খোন্দকার মুন্নার সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
খানগঞ্জে চুরি দেখতে পেয়ে চিৎকার করায় মা-ছেলেকে মারপিট॥চুল কর্তন॥১জন গ্রেফতার
